Home / আত্ম উন্নয়ন / উপস্থাপনা / স্পীকার / কথা বলার ৬ টি বিপজ্জনক “C”

কথা বলার ৬ টি বিপজ্জনক “C”

স্মার্টলি কথা বলার সময় প্রায়ই আমরা কিছু ভুল করে থাকি।যুক্তি পূর্ণ কথা বলার ক্ষেত্রে কি কি বিষয় এড়িয়ে চলা উচিৎ তার সবচেয়ে বিপজ্জনক ৬ টি উপায় বা সিক্স “সি” নিয়ে এখানে আলোচনা করা হবে।

কথা বলার বিপজ্জনক সিক্স সি হচ্ছেঃ

C = Criticize  – নিন্দা

C = Confront   – বিবাদ

C = Complain ­ – অভিযোগ

C = Compromise – সমঝোতা

C = Control – নিয়ন্ত্রণ

C = Comment –  গসিপ / মতামত

এইবার উপরের এই বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

Don’t Criticize – নিন্দা করবেন নাঃ

নিন্দা কি?

নিন্দা করা মানে পরের নামে কুৎসা রটনো বা অপবাদ দেওয়া।যে ব্যক্তি উপস্থিত নেই তার সম্পর্কে তিরষ্কারমূলক কথা বর্তা বলাটাও নিন্দার মধ্যে পড়ে।

সোজা ভাষায় অপরের নামে দোষারোপ করাকেই নিন্দা বলা হয়।

নিন্দা করার কারণঃ-

মানুষ স্বভাবতই সৌন্দর্যপ্রিয় হয়ে থাকে। মানুষ অন্যকে নিন্দা করে এক ধরণের মানসিক তৃপ্তি পায়। অনেক দূর পর্যন্ত অনুসন্ধার করে এর মূল দেখতে গেলে আত্নশ্লাঘায় গিয়ে পৌছিতে হয়। নিন্দে শুনলে আমাদের মনে হয় যে, আমি হলে এ কাজোটা করতেম না, কিংবা আমি একলাই কেবল দোষী নই, এই দুটো কথা অজ্ঞাতসারের আমাদের মনে এক প্রকার গর্ব মিশ্রিত তৃপ্তি জন্মিয়ে দেয়।

নিন্দা কিভাবে দূর করবেন?

শিক্ষা আর চর্চায় এই বিষয়ের যে উন্নতি হয় সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। আত্ন অহংকার বা গর্ব করা বাদ দিতে হবে। এগুলো আসলে লোকে পছন্দ করে না। বিনা প্রয়োজনে কারো নিন্দা করবেন না। যদি নিন্দা করতেই হয়, তাহলে প্রশংসা করা বা উৎসাহ দেবার মধ্যে মধ্যে করুন। এতে আপনার অনেক লাভ হবে। যখন কারো সাথে কথা বলবেন তখন খেয়াল রাখবেন যাতে ভুলেও অন্য কারো নিন্দা না হয়।

একান্তই যদি কারো বিষয়ে কথা বলতে চান তাহলে তাকে গোপনে নিয়ে তার সামনেই কেবল বিষয়টার খোলাসা করুন। এতে আপনাকে ঠোঁটকাটা মানুষ মনে করলেও আপনার গঠনমূলক সমালোচনাকে মেনে নিবে।

নিন্দা করাটা যদি অত্যন্ত জরুরী হয়, তাহলে ব্যক্তির নিন্দা না করে তার কাজের নিন্দা করুন

Don’t Confront – বিবাদ করবেন নাঃ

বিবাদ কি?

বিবাদ মানে হচ্ছে কলহ করা, লড়াই করা বা ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া। কোন ব্যক্তির সাথে তর্কাতর্কি করাটাও বিবাদের মধ্যে পড়ে।

বিবাদ পরিত্রাণের উপায়ঃ

বিবাদের মাধ্যমে আমরা সব সময় বন্ধু-বান্ধব, চাকরী আর প্রতিষ্ঠা হারাই… অর্জন করি না। একজন বুদ্ধিমান মানুষ কখনো কারো সাথে বিবাদে জড়িতে হতে চান না। কথা বলার টেকনিক হচ্ছে যখনই কোন একটা বিষয়ে বিবাদ সৃষ্টি হচ্ছে তখনই কৌশলে সে স্থান পরিত্যাগ করা। বিবাদ করে কোন লাভ হয় না।

বিবাদপ্রিয় ব্যক্তি কখনোই জনপ্রিয় হন না। লোকেরা এমন ব্যক্তিদের নিজেদের টিমে বা বন্ধু বান্ধবের গোষ্ঠিতে শামিল করতে চান না।

Don’t Complain – অভিযোগ করবেন না:

প্রতিটা ব্যক্তিরই কিছু ভাল আর কিছু মন্দ গুন থাকে। সব মিলিয়েই সে মানুষ। কিন্তু প্রায়ই আমরা চলতে এমন কিছু মানুষের সংস্পর্শে চলে আসি যার সংগ বা কোন আচরণ আমরা পছন্দ করি না। এর ফলে আমরা অভিযোগ উঠাতে থাকি। এটা বেশ ভাল। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন একই ধরণের ঘটনা বার বার না ঘটে।

অফিসের কোন কাজে আপনার কলিগের বিরুদ্ধে আপনার বসের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। তবে বেশি অভিযোগ করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই অভিযোগ করার সময় যথেষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।

তাই প্রতিটা ব্যক্তিকে তার দুর্বলতা সহ গ্রহণ করুন। সব জায়গায় ব্যক্তি, বস্তু বা সিস্টেমের নিন্দা করবেন না।

অভিযোগকারী ব্যক্তিরা কখনো জনপ্রিয় হন না। দুর্বলতা আর ভুলগুলোর উপেক্ষা করার অভ্যাস তৈরী করুন। যদি ভুল দেখতেই হয়, তাহলে নিজেকে দিয়ে শুরু করুন

 

Don’t Compromise -সমঝোতা করবেন নাঃ

বাস্তবমূখী হতে চেস্টা করুন। জীবনটা আগেব দিয়ে চলে না। তাই আবেগকে পাত্তা দিয়ে কখনো কম্প্রোমাইজ করবেন না।

নিজের সিদ্ধান্ত আর নৈতিক মূল্য গুলোর সঙ্গে সমঝোতা করতে যাবেন না। আপনি যদি কোন ভুল ব্যক্তি বা ভুল জিনিসের দ্বারা লাগাতার চাপের মধ্যে থাকেন, তাহলে তাকে সেটা বলে দেওয়া বা দুরের থাকাটাই ভাল হবে।

কিভাবে “না”বলবেন?

আপনি সব সময় মানুষকে সাহায্য করতে চান। আমি বলবো অবশ্যই করুন। তবে খেয়াল রাখবেন নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে অন্যকে তাপ নিতে সহায়তা করবেন না। যতটুকু হলে আপনি স্বচ্ছল থাকবেন তার অতিরিক্তটা আপনি কাউকে দিতে পারেন। আপনার সীমাবদ্ধতার মাঝে নয়।

ধরুন আপনার পকেটে ৫০ টাকা আছে। একজন আপনার কাছে ৫০ টাকা চাইলো তার ভীষণ প্রয়োজন।আপনি তার প্রয়োজনটাকে বড় মনে করে আপনার কাছে থাকা ৫০টি টাকা তাকে দিয়ে দিলে আপনাকে হয় অন্য কারো কাছে সাহায্য চাইতে হবে অথবা পায়ে হেটে বাসায় যেতে হবে। এটার কোন প্রয়োজন নেই। তাকে সোজাসুজি না বলে দিন। একবার এই না বলার অভ্যাসটা শুরু করতে পারলে জীবনে অনেক কিছু করতে পারবেন।

আপনি চান সবাই আপনাকে পছন্দ করুক। ঘরের মধ্যে সবাই বলছে চলো পিকনিকে যাই আর আপনি বলবেন “না”? ঠিক যেন গরম দুধে লেবুর রস!

আপনার খেতে ইচ্ছা করছে মুরগী কিন্তু আপনার বউ বলছে না থাক আজ মাছ রাধি।আপনি কি বলবেন “না”? বউ বড় না, মুরগী বড়?
কিছু ক্ষেত্রে কমপ্রমাইজ করতে পারেন। ছোট খাটো ব্যাপারগুলিতে। তবে সে ক্ষেত্রেও খেয়াল রাখতে হবে যাতে আপনার মেজর কোন ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকে।

আপনি যদি কোন কাজ করতে না চান, তাহলে স্পষ্ট রুপে না বলে দিন বা করতে অস্বীকার করুন।

Don’t Control – নিয়ন্ত্রণ করার চেস্টা করবেন নাঃ

কিছু মানুষ আছেন যারা কথা বলার সময় অন্যদের কথা বলার সুযোগই দেন না। এটা মোটেও ঠিক না। অন্যদেরও কথা বলার বা নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করার সুয়োগ দিন। আপনি যদি সব সময় কথায় অন্যদের থেকে জিততে চান বা অন্যদের নিয়ন্ট্রণে রাখতে চান তাহলে আপনি কখনো সফল ব্যক্তি বা সফল বক্তা হতে পারবেন না। পরিবারে প্রায় এই জিনিস্টাকে কেন্দ্র করেই বিবাদের সৃষ্টি হয়। পরিবারেরর কিছু সদস্যকে এতটাই চাপের মধ্যে রাখা হয় যে, তাঁরা নিজেদের ভাবনাকে অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন না আর একদিন ফেটে পড়েন। আপনার মধ্যে যদি কথোপখন আর যুক্তি দিয়ে প্রতিবার অন্যদের নিয়ন্ট্রণে রাখার বা তাদের চেপে রাখার প্রবৃত্তি থাকে তাহলে আপনি খুব শীঘ্রই জনপ্রিয়তা হারাবেন।

 

Don’t Comment – মতামত প্রকাশ / গসিপ সামলে করুনঃ

আমরা প্রায়ই কোন রকম চিন্তা ভাবনা না করেই কোন ব্যক্তির সম্বন্ধে নিজেদের মতামত বা দৃষ্টি ভংগী অন্য কোন ব্যক্তিকে নিজের শুভাকাংগখী মনে করে বলে দিই।এরপর কি হয় আপনার সেই মতামত বা দৃষ্টিভঙ্গিকে সেই ব্যক্তি পর্যন্ত পৌছে দেন, যার সম্বন্ধে আপনি মতামত প্রকাশ করেছেন। এর ফলে আপনার পক্ষে জবার দেওয়া মুস্কিল হয়ে পড়ে।

বন্ধু বান্ধবের আড্ডায়, কিংবা চায়ের টেবিলে কথা বলার সময় আমরা প্রায়ই অন্য আরেকজনের নামে গসিপ তারই কাছের কারো কাছে বলে দিই।

আমাদের সেই ছোট্র গসিপ শেষ পর্যন্ত কি রুপ নেবে, সেটা আমরা কেউই জানি না। সুতারাং যেকোন ব্যাপারে অনাবশ্যক মতামত প্রকাশ করতে যাবেন না।

আপনার মতামত জানাবেন নিশ্চয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.