Home / আত্ম উন্নয়ন / উপস্থাপনা / তথ্য সংগ্রহ কেন জরুরী এবং উপস্থাপনায় তার সঠিক ব্যবহার। পর্ব (২/২)

তথ্য সংগ্রহ কেন জরুরী এবং উপস্থাপনায় তার সঠিক ব্যবহার। পর্ব (২/২)

আগের পর্বে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। যেমনঃ

তথ্য সংগ্রহ কেন জরুরী:

ভাষণের মোটিভ বা উদ্দেশ্যেঃ

অনুষ্ঠানের সময় এবং তারিখঃ

অনুষ্ঠানের স্থানঃ

আপনি আমন্ত্রণের উদ্দেশ্য কি?

শ্রোতা কারাঃ

ক) শ্রোতার বয়সঃ

খ)শ্রোতার শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ

গ) শ্রোতারা মহিলা প্রধান না পুরুষপ্রধান?

ঘ) শ্রোতাদের আর্থিক স্তরঃ

আজকে এই সিরিজের বাকী বাকী সমস্ত বিষয় নিয়ে কথা বলবো । পর্ব দুইঃ

 

বক্তব্য প্রদানের জন্য নির্ধারিত সময়ঃ

ভাল ভাষণ সেটাই হয়, যাতে কম সময়ে শ্রোতাদের কাছে ভাল তথ্য পৌছে দেওয়া হয়”।

এমন হতে পারে যে আপনাকে বক্তব্য প্রদানের জন্য কম সময় দেওয়া হয়েছে আর আপনি বক্তব্য প্রদানের জন্য অনেক বেশি প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। যে সময় আপনাকে দেওয়া হয়েছে সেটুকু তো আপনার প্রস্তুতি অনুযায়ী ভুমিকা প্রদান করতেই চলে যাবে। তাই প্রস্তুতির সময় অনুষ্টানে আপনাকে দেওয়া সময় জেনে নিতে হবে।

খেয়াল রাখতে হবে আপনার সময় যত কম হবে আপনাকে তত বেশি মোটিভ এবং সার কথাটুকু বলতে হবে। আবার যদি আপনাকে প্রদত্ত সময় একটু বেশি থাকে তাহলে আপনি আপনি ভুমিকা সহ আপনার মোটিভের বিশ্লেষণে যেতে পারেন।

খেয়াল রাখতে হবে আপনাকে আপনার বক্তব্য প্রদানের জন্য আসল প্রসঙ্গটা অবশ্যই বলতে হবে।

আপনি ছাড়াও কি আরো বক্তা রয়েছেন?

আমরা অনেক সময় কোন একটা বিষয়ের উপর অনেক বেশি প্রস্তুতি নিয়ে মঞ্চে গিয়ে বসে থাকি আর দেখি আমরা যা বলতে চেয়েছি সেটা অন্য আরেকজন বক্তা বলে ফেলছে। এখন আপনি কি করবেন?

আগে যতই বলা হোক না কেন, আপনি কি আপনার বক্তব্য চালিয়ে যাবেন নাকি ইন্সট্যান্ট নতুন ভিন্ন কিছু বলা শুরু করবেন?

না।  একই কথা, যেটা আপনার প্রস্তুতিতে ছিল সেটা যদি আগের কোন বক্তা বলে যান তাহলে একই বিষয় নিয়ে আর কথা না বলাই ভালো।

এই জন্য আপনার অনুষ্ঠানের বক্তা একাধিক হলে আপনাকে একাধিক বিষয়ের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। যদিও একই বিষয়ে পুর্ববর্তি বক্তার কথা বলার সম্ভাবনা খুবি কম তারপরেও আপনার যদি একাধিক বিষয়ে প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া থাকে তবে আপনার কথা বলতে আরো বেশি আত্নবিশ্বাসী হবেন।

এখানে আরেকটা টেকনিক হলো আপনার পুর্ববর্তি কোন বক্তার অসম্পূর্ণ কথাকে সমর্থন জানিয়ে একি বিষয়ের উপর আরেকটা উদাহরণ দিতে পারেন।

অতিরিক্ত প্রস্তুতি জরুরী অবস্থায় আপনার সহায়ক হয়ে উঠবে।

উপস্থাপনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীঃ

যেখানে আপনি বক্তব্য প্রদান করতে যাচ্ছেন সেখানের বেশ কিছু বক্তব্য প্রদানের সামগ্রী প্রয়োজন। যেমন মাইক, ল্যাবটপ, স্লাইড, প্রজেন্টার, মনিটর অথবা পর্দা, স্লাইড চেঞ্জার ইত্যাদি।

এই সমস্থ জিনিসপত্র ঐখানে আগে থেকেই আছে কি’না নাকি আপনাকে কিছু নেওয়ার প্রয়োজন আছে সেটা আপনাকে আপনার বক্তব্য প্রদানের জন্য সহায়ক হবে।

এক্সটারা টিপসঃ

কিভাবে দৈনন্দিন জীবনে তথ্যের ব্যবহার করবেন?

খেয়াল করে দেখেছেন কি গুগল কিভাবে আমাদের একদম সঠিক তথ্য এনে দেয়। সে আসলে তথ্যের বিশ্লেষণ সঠিকভাবে করে। আপনার মনে হয় আপনার চাওয়ার বিষয়ে সে খুব ভাল করে জানে। কিন্তু আপনি নিজেই সব কথা ওকে আগে থেকেই বলে দিয়েছেন। ও শুধু সেটাকেই মনে রেখে আপনার সাথে খেলছে। আর এতেই আপনি অনেক অবাক হয়ে যান। গুগলের যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সেটা আরো বেশি ভয়াবহ। তথ্যের এক বিশাল বড় রাজা হবে সে। চাইলে আমার আরেকটা পোস্ট গুগলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সে সম্পর্কে দেখে আসতে পারেন। আচ্ছা এই সব কথা অন্য আরেকদিন বলবো আজকের বিষয় আগে শেষ করি।

আপনি যখন কারো সাথে কথা বলেন তখন মানুষ বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। যেমনঃ

তাদের জন্মতারিখ ও বিবাহ দিন তারিখ

তাদের পরিবারের অন্য কারো নাম্বার।

তার শিক্ষাগত স্কুল, কলেজ,

বিশেষ কোন ঘটনা।

পরিবারে সে কত তম সদস্য, তার পরিবারে কে কে আছেন, কি করছেন,

ইমেইল, হোয়াসট আপ, ফেসবুক লিঙ্ক

তার মেয়ে, বা প্রিয়জনের নাম সম্ভব হলে জন্মতারিখ বা বিশেষ জনের সাথে দেখা হওয়ার তারিখ,

বাসা, বাড়ি, কোম্পানি বা এমন বিশেষ বিষয়ে সে অভিজ্ঞ ইত্যাদি তথ্য।

আপনি একটু খেয়াল করবেন এই ধরনের তথ্য গুলো মানুষ প্রায়ই আপনাকে বলে দেয়। কিন্তু আপনি গুগলের মত মানুষকে চমকে দিতে পারেন না। এর প্রধান কারণ হলো আপনি তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখেন না। আপনি প্রযোজনে সেই সমস্থ তথ্য ব্যবহার করতে পারেন না।

এর পর থেকে একটা কাজ করবেনঃ আপনার ফোনের মধ্যে দেখবেন কন্টাক্ট সব গুগলে সেভ করে রখা যাবে। এইখানে এডিট অপশনে দেখবেন অনেক অনেক অবশন আছে। আপনি চাইলে আরো ফিল্টার করে তথ্য যোগ করতে পারেন।

এরপর থেকে যখনি কারো কাছ থেকে নতুন কোন তথ্য পাবেন সাথে সাথেই সেই সব তথ্য আপনি এখানে ফিল্টার করে সেভ করে রাখতে পারেন। দিনে দিনে তার সম্পর্কে অনেক বেশি তথ্য আপনার কাছে জমা হয়ে যাবে। এক টা সময় এমন হবে যে আপনি তার সম্পর্কে এত বেশি তথ্য সংরক্ষন করে ফেলেছেন সে নিজেও জানে না এত কিছু ঘটনা কখন আর কিভাবে ঘটেছে?

এখন কাজে লাগাবেন কিভাবে?

তথ্য যদি আপনার কাছে থাকে তাহলে আপনি নিজেই বুঝে যাবেন সেটা কিভাবে কাজে লাগাবেন।

ধরুন আপনার কোন আপনার কোন বিশেষ মানুষের সাথে মন মালিন্য হয়েছে, আপনার তার বার্ড ডে মনে আছে তাকে উইশ করুন দেখবেন আবার সম্পর্কটা একটা নতুন মাত্রায় শুরু হয়ে যাবে। একি ট্রিক্টা আপনি আপনার অনেক পুরোনো বন্ধুর ক্ষেত্রেও কাজে লাগাতে পারেন। হঠাত আপনার একটি ম্যাসেস আপনার সম্পর্কে পজেটিভ ধারণা দিবে।

আপনি কারো সাথে কথা বলার আগে তার প্রফাইলটা দেখে নিলেন। এই বার তার সাথে কথা বলার সময় তার অতীতে কোন একটা বিষয়ে আগ্রহ ছিল এমন বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন এতে সে ভাববে আপনি হয়তো তার কথা ভাবেন।

এই রকম অনেক উদাহরণ আপনি নিজেও জানেন। দরকার শুধু সঠিকভাবে তথ্য কাজে লাগানো।

তবে ভুল উদ্দেশ্যে কখনো তথ্য অপব্যবহার করবেন না।

 

তথ্য সংগ্রহের ২ পর্বের আলোচনা এখানে শেষ।

উপস্থাপনার জন্য অন্য আরেকটা টপিক নিয়ে আবার কথা হবে ইনশাল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.