Home / আত্ম উন্নয়ন / উপস্থাপনা / তথ্য সংগ্রহ কেন জরুরী এবং উপস্থাপনায় তার সঠিক ব্যবহার।পর্ব (১/২)

তথ্য সংগ্রহ কেন জরুরী এবং উপস্থাপনায় তার সঠিক ব্যবহার।পর্ব (১/২)

আপনি যখন কোথাও কোন ভাষণ বা বক্তব্য দিতে চাইবেন তার পূর্বে আপনাকে কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

আপনার বক্তব্যকে সফল করার জন্য  কি কি সম্ভাব্য তথ্য সংগ্রহ করতে হবে আপনার উপস্থাপনার প্রস্তুতি নিতে সেই সকল বিষয় নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহ কেন জরুরী:

ইনফরমেশন। ইনফরমেশন বা তথ্য সংগ্রহ কেন জরুরী সেটা অনেক কারণ আছে।

যার কাছে যত বেশি তথ্য আছে, যে ওই তথ্যসমূহকে যত বেশি এনালাইসিস করে কাজে লাগাতে পারে সে তত বেশি শক্তিশালী।

একজন সফল বক্তা হয়ে উঠতে হলে আপনাকে এই তথ্য সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা শিখতে হবে।

কিভাবে এই তথ্য কাজে লাগাতে হয় সেই কৌশল জানতে হবে।

আপনি যখন কোথাও কথা বলেন, কিংবা কোন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হোন, সেখানে আপনাকে কি করতে হয়?

কিছু কথা বলতে হয়। অর্থাৎ তথ্য বিশ্লেষণ করে দক্ষতার সাথে আপনার শ্রোতাদের কাছে সঠিকভাবে পোঁছে দেন।

আপনার শ্রোতারা আপনার কথা শুনে পুলকিত চমকিত হয়ে উঠেন।

এই তথ্য আপনার উপস্থানার ক্ষেত্রেও বেপক ভুমিকা রাখে।

কি কি ভাবে আপনি তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন এবং সেই সব তথ্য আপনি এনালাইসিস করে কিভাবে সঠিকভাবে যথাযথ স্থানে প্রযোগ করতে পারেন সেই সকল বিষয়ে আজকে বিস্তারিত আলোচনা হবেঃ

ভাষণের মোটিভ বা উদ্দেশ্যেঃ

আপনাকে কোথাও নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। সেটা কি অনুষ্ঠান, কি উদ্দেশ্যে এই অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে আপনাকে আমন্ত্রণের বিশেষ উদ্দেশ্যে কি।

আপনি যদি অনুষ্টানের উদ্দেশ্যেটা জানতে পারেন তাহলে অনুষ্ঠানের ধরণ অনুযায়ী আপনি উপস্থাপনার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবেন। যেমন অফিসের মিটিং, সঙ্গীত সমারোহ, দেশভক্তিপূর্ণ অনুষ্টান, মহিলাদের মিটিং, স্কুল কিংবা বাচ্চাদের অনুষ্টান ইত্যাদি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ধরণ অনুযায়ী আপনার প্রস্তুতই নিতে হবে।

একেক অনুষ্ঠানের মোটিভ অনুযায়ী আপনাকে আপনার বক্তব্য প্রদানের জন্য প্রস্তুতি আলাদা রাখতে হবে।

 

 

অনুষ্ঠানের সময় এবং তারিখঃ

সময়জ্ঞানটা অত্যন্ত জরুরী একটা বিষয়। একজন ব্যক্তা হিসেবে আপনাকে আপনার অনুষ্টান প্রদানের তারিখ এবং সময়ের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে হবে।

একটা সফল ব্যক্তার সফল বক্তব্য প্রদানের জন্য সঠিক সময়জ্ঞান এবং সঠিক প্রস্তুতি এবং সঠিক উপস্থানার সংমিশ্রণ একান্ত প্রযোজন।

আপনি যদি অনুষ্ঠানের সময় এবং তারিখ সম্পর্কে আগেই জেনে যান তবে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার হাতে ক’টা দিন আছে প্রস্তুতি নিবার জন্য।

 

 

অনুষ্ঠানের স্থানঃ

দেখুন উপস্থাপনার জন্য স্থান আগে জেনে নেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

অনুষ্ঠান যদি কোন হলঘর, রাস্তার মোড়, খোলা মাঠ নাকি অন্য কিছু সেই স্থান সম্পর্কে আগে জেনে নিবেন।

অনুষ্ঠানের স্থান সম্পর্কে জানা থাকলে সেই অনুযায়ী আপনার পোষাক, আর ভাষণ সামগ্রী প্রস্তুত করতে সহজ হবে।

আপনি আমন্ত্রণের উদ্দেশ্য কি?

আপনি যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানের জন্য যাচ্ছেন সেখানে আপনাকে ডাকার উদ্দেশ্য কি?

আপনি কি সেই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি?

আপনি কি আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে যাচ্ছেন?

নাকি আপনি কোন বিশেষ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ?

আপনি নিশ্চিত হয়ে নেন আপনাকে ডাকার আসল উদ্দেশ্য কি? সেই অনুযায়ী আপনি আপনার ব্যক্তব্য ও ব্যক্তব্য প্রদানের জন্য প্রযোজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখুন।

আপনাকে যে ভুমিকায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সেই ভুমিকা আপনাকে পালন করতেই হবে।

 

 

শ্রোতা কারাঃ

অনুষ্ঠান চলাকালীন সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শ্রোতা। শ্রোতা আপনার বক্তব্য সফল করতে পারে। আপনি কত সফল বক্তা সেটার জাস্টিফিকেশন এই শ্রোতারাই করবেন।

আপনার শ্রোতা যে ধরনের হবে আপনার ভাষণের বিষয়বস্তুও সেই ধরণের হওয়া উচিৎ।

শ্রোতা সাধারণত কত ধরণের হতে পারে সেই বিষয়ে একটু ধারণা দেই।

ক) শ্রোতার বয়সঃ

আপনি তো শুনেই থাকবেন শীত কালের কাপড় গরম কালে চলে না। তেমনি বক্তব্য প্রদানের জন্য শ্রোতার বয়স বা এভারেজে তাদের বয়স বা শ্রেণী জানা খুব জরুরী।

বাচ্চা আর বৃদ্ধদের অনুষ্ঠানে একই ধরণের বক্তব্য রাখা যাবে না। তাদের মানসিক স্তর অনুযায়ী ভাষণ প্রদান করা উচিৎ।

ধরণ আপনাকে একটি স্কুলের বাচ্চাদের সামনে তাদের স্কুলের পড়া পড়ানোর গুরুত্বের উপর বক্তব্য রাখতে বলা হয়েছে তাহলে আপনি এখানে অনেক জ্ঞানীর মত করে কথা বললে কাজ হবে না। আপনাকে কথা বলতে হবে তাদের ভাষায়। তাদের মত করে। বাড়ীতে বসে কার্টুনে দেখানোর গুরুত্বের উপর থেকে শুরু করে, কবিতা, রঙ পেন্সিল কিংবা তাদের সামনে আছে এমন যে জিনিস যেটা তারা পেতে চায় আপনি সেই সূত্র ধরে তাদের সাথে কথা বলা শুরু করতে পারেন।

আবার ধরেন কোন বয়স্কদের অনুষ্ঠানে কোন বক্তব্য রাখতে চাইলে অনুষ্ঠানের বিষয় অনুযায়ী আপনাকে যে তথ্য প্রদান করতে হবে সেটা বাস্তবিক এবং ন্যায় সঙ্গত হতে হবে। তাদের সাথে কথা বলার সময় তাদের অতীত জীবনের প্রতিচ্ছবি তাদের দেখাতে হবে। তাদেরকে আয়নার মত করে সব কিছু দেখাতে হবে। তথ্যে কোন ভুল কিংবা অস্বীকার করার মত কিছু রাখা যাবে না।

তাই অবশ্যই বক্তব্য প্রদানের আগে কোন শ্রেণীর বা কোন বয়সের মানুষের কাছে বক্তব্য রাখছেন সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত দরকার।

 

খ)শ্রোতার শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ

আপনি যখন একজন ভাল বক্তা হতে চাইছেন তখন আপনাকে তো শ্রোতার শিক্ষাগত অবস্থান এনালাইসিস করতেই হবে।

শ্রোতারা কি গ্রাজুয়েট নাকি হাই স্কুল পর্যন্ত শিক্ষিত। আপনার ভাষণে শ্রোতাদের যোগ্যতা আর জ্ঞান অনুযায়ী তথ্য থাকা উচিৎ।

যেমন উচ্চ শিক্ষিত শ্রোতারা রাজনীতি, পরিবেশ, সমাজ, সাম্য এবং উপভোগ্য বিষয়ে বেশি আগ্রহ দেখান। আপনি যখন এই শ্রেণীর শ্রোতাদের সামনে কথা বলবেন তখন এই সমস্থ বিষয়ে কথা বলে দেখতে পারেন। ভীষণ কাজ হবে।

একজন শ্রোতারা চায় তারা যা বলতে পারছেন না, তারা যা এড়িয়ে গেছেন সেই সমস্থ বিষয় আপনি তাদের সামনে তুলে ধরেন তারা আপনার কাছে কিছু জেনে নিবে।

তাই কথা বলার সময় শ্রোতাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা জানা একান্ত প্রয়োজন।

গ) শ্রোতারা মহিলা প্রধান না পুরুষপ্রধান?

আপনার শ্রোতাদের মধ্যে যদি অধিকাংশ ঘরোয়া মহিলার সংখ্যা বেশি হয় আর তাদের মধ্যে যদি আপনি প্রযুক্তিগত ভাষণ দিতে শুরু করেন তাহলে খুব বেশি কাজে দিবে না।

আপনার অর্ডিয়েন্সের মধ্যে মহিলার সংখ্যা বেশি না পুরুষের সেই জিনিসটা জানা থাকলে আপনার প্রস্তুতি গ্রহন অনেক বেশি সহজ হবে।

ঘ) শ্রোতাদের আর্থিক স্তরঃ

ধরুন কোন নিম্ন আয়ের লোকদের সামনে আপনি বক্তব্য প্রদানের জন্য যাচ্ছেন তখন আপনি যদি বিলাসবহুল কোন বিষয়ের তথ্য প্রদান করেন তাহলে আপনি যেমন শ্রোতাদের যেমন আগ্রহ হারাবেন তেমনি আপনি তাদের অনাগ্রহ দেখতে পারবেন। শ্রোতারা যদি নিম্ন আয়ের হয় তাহলে তাদের সামনে উচ্চ বিলাসিতার কথা বললে অনেক ক্ষেত্রে তারা অপমানিতও বোধ করতে পারে।

আবার যদি শ্রোতারা উচ্চ শ্রেণির হয় তাহলে কোন সমস্যা নেই।

অর্থাৎ আপনাকে আপনার শ্রোতাদের আর্থিক বিষয়টাও মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

কোথাও উপস্থাপনার জন্য তথ্য সংগ্রহটা কেন জরুরী, আর সেটাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেই সম্পর্কে আলোচনাটা অনেক বিশাল।

এর পরের অংশে আলোচনা করা হবেঃ

বক্তব্য প্রদানের জন্য নির্ধারিত সময়ঃ

আপনি ছাড়াও কি আরো বক্তা রয়েছেন?

উপস্থাপনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীঃ

এক্সটারা টিপসঃ

এখন কাজে লাগাবেন কিভাবে?

উপস্থাপনার জন্য তথ্যের প্রয়োজনীয়তার দুই পর্বের প্রথম পর্ব এখানেই শেষ। দ্বিতীয় পর্বের লিঙ্ক এখানে দিয়ে দিচ্ছি আলোচনার সমাপ্তির জন্য এখানে ক্লিক করে দেখতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.