Home / অফিস ম্যানেজমেন্ট / ওয়ার্ড এর কিবোর্ড শর্টকাট

ওয়ার্ড এর কিবোর্ড শর্টকাট

 

মাইক্রোসফট অফিসের যে কত যে শর্টকার্ট আছে সেগুলো যেমন জানাটাও কষ্টকর তেমনি মনে রাখাটাও। তবুও সবচে গুরুত্বপূর্ণ কী বোর্ড শর্টকাটগুলি নিয়ে আমরা আলোচনা করবো।

এই পর্বে আমরা মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর বাকী সমস্থ কী বোর্ড শর্টকাট জানবো সাথে কোন শর্টকাটের কী ঘটনা ঘটে সেটাও দেখানোর চেস্টা করবো।

১. এম.এস. ওয়ার্ড ওপেন করাঃ কমান্ড প্রোমোট গিয়ে winword লিখে এন্টার দিলে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড চালু হয়ে যাবে।অথবা

smgrGroup.com

চাইলে আপনি কাস্টম শর্টকাটও দিতে পারেন। এই সম্পর্কে পিকচারসহ আমি আগের পোস্ট এ দিয়ে দিয়েছি চাইলে এখানে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন।

২. এম.এস. ওয়ার্ড ক্লোজ করা, বাহির হওয়া বা বন্ধ করার জন্যঃ Alt+F4

এই কী বোর্ড শর্টকাটের মাধ্যমে উইন্ডোজের যে কোন প্রোগ্রাম ক্লোজ করা যায়।


৩. যেকোন ডকুমেন্ট সেভ করার জন্যঃ Ctrl + S

ওয়ার্ডে যেকোন ডকুমেন্ট সেভ করার সময় মাঝে মাঝেই এটা একবার করে চাপার অভ্যাস করবেন, নইলে ডকুমেন্ট হারিয়ে যেতে পারে।


৪. আগের সেভ করা কোন ডকুমেন্ট ওপেন করার জন্যঃ Ctrl+O

৫. ফন্ট সাইজ ছোট করার জন্যঃ Ctrl+[   অথবা Ctrl+Shift+, (কমা)



৬. ফন্ট সাইজ বড় করার জন্যঃ Ctrl+[   অথবা Ctrl+{


এখানে বলে রাখা ভালো ফন্টের সাইজের এই বড় ছোট করার শর্টকাট টেকনিক শুধুমাত্র লিখা ইংরেজিতে হলেই কাজ করবে। লিখা বাংলা হলে কিন্তু ম্যানুয়ালী এটা করতে হবে।


৭. যেকোন সিলেক্ট করা অংশকে বোল্ড করার জন্য Ctrl+B

৮. যেকোন সিলেক্ট করা অংশকে ইটালিক করার জন্য Ctrl+I


৯. যেকোন সিলেক্ট করা অংশকে আন্ডার লাইন  করার জন্য Ctrl+U

এই Bold, Italic Underline এইগুলো একসাথেই আছে যেমনটি পিকচারে দেখতে পাচ্ছেন। 

১০. সিলেক্ট করা অংশকে কাট করার জন্যঃ Ctrl+X  অর্থাৎ সিলেক্টকৃত অংশটি এখান থেকে রিমুভ হয়ে যাবে।কোন কিছু সিলেক্ট করে মাউসের রাইট বাটনে ক্লিক করুন বাকী অপশন পেয়ে যাবেন। 

১১. সিলেক্ট করা অংশকে কপি করার জন্যঃ Ctrl+C  অর্থাৎ সিলেক্টকৃত অংশটি অপরিবর্তীত থেকে নতুন একটি কপি তৈরী হবে। 

১২. সিলেক্ট করা অংশকে পেস্ট করার জন্যঃ Ctrl+V  অর্থাৎ কাট বা কপির মাধ্যমে যে অংশটুকু সিলেক্ট করা হলো সেটা এই শর্টকার্ট কী এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্থানে স্থান্তরিত হবে।

 
কী বোর্ড শর্টকাটে এই কাট, কপি, পেস্ট যে কি পরিমাণ ব্যবহৃত হয় তা কল্পনাও করতে পারবেন না। আর হ্যাঁ, মাক্রোসফট ওয়ার্ড ছাড়াও এই কাট কপি পেস্ট শর্টকার্টগুলো অন্য যেকোন প্রোগ্রামেও একই কাজে ব্যবহৃত হয়।

১৩. আন্ডু বা আগের অবস্থায় ফিরে আনার জন্য Ctrl+Z
ধরুন কোন কিছু লিখেছেন বা কিছু একটা করেছেন, এখন নতুন পরিবর্তন চাচ্ছেন না তাই আগের অবস্থায় যেতে চাচ্ছেন তখন এই Ctrl +Z কী চাপলে আবার হিস্টোরি অনুযায়ী আগের অবস্থায় যেতে পারবেন। এইটা দারুন কাজে লাগে।

১৪. রিডু বা পরের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য Ctrl+Y
এটা আন্ডু এর সম্পূর্ণ বিপরীত। ধরুন কিছু একটা করার পর Ctrl+Z চেপে আন্ডু করেছেন, এখন আবার পরের অবস্থায় ফিরে যেতে চাইছেন তাহলে এই Ctrl+Y বা রিডু করতে হবে।

এই আন্ডু এবং রিডু অনেক সময় কোন কিছুকে তুলনা করতেও বেশ কাজে লাগে। যেমন কিছু একটা আগে কেমন ছিল আর এখন কেমন। তফাৎটা বেশ বুঝা যায়।

১৫. ডকুমেন্টের কোন নির্দিষ্ট বা কাঙ্ক্ষিত শব্দ খুজে পেতে Ctrl+F.
অনেক বড় একটা ডকুমেন্ট লিখেছেন এখন একটা নির্দিষ্ট শব্দ বা লাইনে জাম্পিং করে চলে যেতে চাইছেন। অথবা অনেক বড় একটা ডকুমেন্টে কোন একটা বিষয় সম্পর্কে খুজতে চাইছেন। সেক্ষেত্রে শুধু শব্দটি লিখে Enter দিলেই কাঙ্ক্ষিত শব্দ সেই ডকুমেন্টে থাকলে সেটা পেয়ে যাবেন। 

১৬. ওয়ার্ড রিপ্লেসমেন্ট বা নির্দিষ্ট কোন শব্দকে অন্য ওয়ার্ড দিয়ে প্রতিস্থাপন করার জন্যঃ Ctrl+H . কী বোর্ডে এই শর্টকাটটি চাপলে একটা নিচের পিকচারের মত উইন্ডো আসবে। এখানে Find What: এই অপশনে যে শব্দটি পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন সেটা দিবেন এবং Replace With: এইখানে পরিবর্তন করে যে শব্দ লিখতে চাচ্ছেন সেটা লিখবেন। তারপর Enter দিলে দেখবেন পরিবর্তনের আগে শব্দটি হাইলাইট হবে। OK হলে Replace এ অথবা সবগুলো একসাথে পরিবর্তনের জন্য  Replace All এ ক্লিক করে  Enter।

১৭. ডকুমেন্টের কোন নির্দিষ্ট পেজে যাবার জন্য Ctrl+G
ধরুন ৫ নাম্বার পেজে যেতে চাচ্ছি, জাস্ট Ctrl+G  চাপলে নিচের উইন্ডো ওপেন হবে এখানে পেজ নাম্বার দিয়ে Go To  তে বা Enter বাটনে ক্লিক করলেই কাঙ্ক্ষিত পেজে চলে যাবেন।



১৮. স্পেলিং এর গ্রামাটিক্যাল চেক করার জন্য F7 চাপতে হবে।
বড় কোন আর্টিকেলের যদি গ্রামাটিক্যালি মিস্টেক চেক করতে চান তাহলে F7 চাপতে হবে। F7 শর্টকার্ট কী চাপলে একটা উইন্ডো আসবে নিচের পিকচারের মত। এখান সাজেশন থেকে সঠিক শব্দ সিলেক্ট করে Change এ ক্লিক করতে হবে অথবা নাম বা অন্য কোন শব্দ যেটা আপনার মনে হয় সঠিক কিন্তু গ্রামাটিক্যালি মিস্টেক ধরেছে তাহলে Ignore এ ক্লিক করুন। সব শেষে Enter বাটন ।

১৯. মাউস পয়েন্টার লিখার শুরুতে আনার জন্য Ctrl+Home .
যখন বড় বা যেকোন ডকুমেন্টের শেষ থেকে একদম শুরুতে আসতে চাইছেন তখন মাউস না চেপে Ctrl+Home চাপলে লিখার শুরুতে আসা যায়। আর শুধু Home চাপলে কোন বাক্যের শুরুতে আসে।

২০. মাউস পয়েন্টার লিখার শেষে আনার জন্য Ctrl+End
এটির ব্যবহার Ctrl+Home এর বিপরীত। ওইটা লিখার শুরতে আনে আর একইভাবে এটা লিখার শেষে আনে।

২১. প্রিন্ট দিবার জন্য Ctrl+P


21.1 প্রিন্ট প্রিভিউ দেখার জন্য Ctr+F2


২২. হাইপারলিংক দিবার জন্য Ctrl+K
হাইপারলিঙ্ক এর মাধ্যমে কোন ইমেইল বা ওয়েবসাইটের লিঙ্ক, ছবি বা অন্য কোন ডকুমেন্ট এ্যাড করা যায়।কোন টেক্সকে হাইপারলিঙ্ক করে সেই টেক্সের উপর ক্লিক করলে সেই লিঙ্ক বা ডকুমেন্টটি ওপেন হয়ে যাবে।

23. নতুন ফাকা ডকুমেন্ট নিবার জন্যঃ Ctrl+N
অনেক সময় কাজ করার জন্য অনেক নতুন ডকুমেন্ট নিতে হয়। সেটা এই Ctrl+N এই কী-বোর্ড শর্টকাট চেপে সহজেই করা যায়।

২৪. সর্বশেষ আগের সংশোধনের স্থানে যাওয়ার জন্য Ctrl+PageUp   এবং
২৫. পরের সংশোধনের স্থানে যাওয়ার জন্য Ctrl+PageDown


২৬. ডানডিক থেকে একটি বর্ণ ডিলিট করার জন্যঃ Delete
আর যদি ডানদিক থেকে একটি বর্ণের পরিবর্তে একটি শব্দ করে করে ডিলিট করতে চান তাহলে Ctrl+Delete প্রেস করতে হবে।

২৭. বামদিক থেকে একটি বর্ণ ডিলিট করার জন্যঃ Backspace
আর যদি বামদিক থেকে একটি বর্ণের পরিবর্তে একটি শব্দ করে করে ডিলিট করতে চান তাহলে Ctrl+ Backspace প্রেস করতে হবে।

২৮. ডকুমেন্টের যেকোন জায়গায় খালি ফিল্ড ইনসার্ট করার জন্যঃ Ctrl+F9
ধরুন ডকুমেন্টের বাক্যের মাধ্যে ব্র্যাকেটের মাঝে কিছু লিখতে চাচ্ছেন তখন এই কী-বোর্ড শর্টকাটটি ব্যবহার করতে পারেন।


২৯.পেজ ব্রেক ইনসার্ট করার জন্য শর্টকাটটি হচ্ছেঃ Ctrl+Enter
Enter দিয়ে দিয়েও কিন্তু একি কাজ করা যায় তবে সেক্ষেত্রে নতুন কিছু Edit করলে ডকুমেন্ট এলোমেলো হয়ে যেতে পারে তাই পেজ ব্রেক দিতে হয়। খেয়াল রাখবেন পেজ ব্রেক সবসময় নতুন পেজ থেকে শুরু হয়।

30. বামদিক থেকে একটি বর্ণ করে করে সিলেক্ট করার জন্যঃ Ctrl+ Left Arrow

৩১.ডানদিক থেকে একটি বর্ণ করে করে সিলেক্ট করার জন্যঃ Ctrl+ Right Arrow

৩২. উপরে একটি লাইন সিলেক্ট করার জন্যঃ Ctrl+ Up Arrow

৩৩. নিচের একটি লাইন সিলেক্ট করার জন্যঃ Ctrl+ Down Arrow

৩৪. বামপাশের একটি পুরো লাইন সিলেক্ট করার জন্যঃ Shift+ Home

৩৬. ডানপাশের একটি পুরো লাইন সিলেক্ট করার জন্যঃ Shift + End
সবচে ভাল হয় এত কিছু মনে না রেখে যা সিলেক্ট করতে চাইছেন তার জন্য Shift চেপে উপরে হলে Up Arrow, নিচে হলে Down Arrow, বাম পার্শ্বে হলে Left Arrow এবং ডানপাশে হলে Right Arrow চাপুন আর যেমন খুশি সিলেক্ট করুন। তারপর কাট,কপি,পেস্ট ইচ্ছামত।

৩৬. সম্পূর্ণ ডকুমেন্ট সিলেক্ট করার জন্যঃ Ctrl+A
কোন চলতি ডকুমেন্টের এ টু জেড অংশ সিলেক্ট করতে চাইছেন সেক্ষেত্রে এই শর্টকাট কী চাপতে হবে। এটা অবশ্য মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ছাড়াও অন্যান্য যেকোন প্রোগ্রামেও কাজ করে।

৩৭. পরবর্তী সেল বা একটু দুরের স্পেস দিতে Tab কী চাপতে হবে।
এইটা আগে পরে কন্ট্রোল করার জন্য Shift কী ব্যবহার করতে পারেন। অর্থাৎ Tab এর মাধ্যমে পরের সেল সিলেক্ট কিংবা আগের সেল সিলেক্ট করার জন্য Shift+Tab ব্যবহার করতে পারেন।
সাধারণত সিভি লিখার সময়ঃ বর্তমান ঠিকানা বা অন্য কিছুতে লাইনগুলো একদম স্ট্রেইট সোজা করতে এই Tab কী প্রচুর কাজে লাগে।

৩৮. সিংগেল লাইন স্পেসিং সেট করার জন্যঃ Ctrl+1

৩৯. ডাবল লাইন স্পেসিং সেট করার জন্যঃ Ctrl+2

এই লাইন স্পেসিং ব্যবহার করলে একটা লাইনের থেকে আরেকটি লাইনের দুরত্ব একটু বেরে যায়।

৪০. ডকুমেন্ট মার্জড করার জন্য Atl+Shift+N
৪১. মেইল মার্জ প্রদর্শনের জন্য Atr+Shift+K

৪২. মার্জ ডকুমেন্ট প্রিন্ট করার জন্য Alt+Shift+M

৪৩. মেইল মার্জড ডাটা ডকুমেন্ট এডিট করার জন্য Alt+Shift+E

৪৪. একটি মার্জ ফিল্ড ইনসার্ট করার জন্য Alt+Shift+F

৪৫. সবার শেষে- যদি কোন কিছু না পারেন তবে ইন্টারনেট কানেকশন না থাকলে জাস্ট F1 এ ক্লিক করেন আর আশা করি বাকীটা বুঝতে পারবেন।

সবশেষে বলতে চাই- উপরের এই কী-বোর্ড শর্টকার্ট ছাড়াও আরে অনেক মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের জন্য শর্টকাট রয়েছে। তবে এইগুলো প্রাকটিস করতে থাকলে বাকীগুলো এমনিতেই পেয়ে যাবেন।

প্র্যাকটিস করতে থাকুন, জানতে থাকুন, উন্নতি করতে থাকুন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.