কিভাবে ইংরেজি শিখবেন?

প্রেফেশনাল লাইফে ইংরেজি শিখাটা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। আর এই ইংরেজি শিখার জন্য আমাদের কত প্রচেষ্টা!  আজকে কিছু প্রাকটিক্যাল বিষয় নিয়ে কথা বলবো যা আমাদের ইংরেজি শিখার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।

ধরুন আপনি ইংরেজি শিখতে চান। চাইলে আপনি ইত্যাদি ইত্যাদি নামকরা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চান। তবে আপনি কি করবেন সেটা আপনার ইচ্ছা ।

তারা আপনাকে কি শিখাবে।একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান যিনি সব মডিউল তৈরী করে তিনি তার প্রতিষ্টান সম্পর্কে কি কি তথ্য রেখেছেন সেই গুলি সম্পর্কে জানুন। টোটাল ক্লাশের কোন পাঠে কি শিখাবে সেটা কিভাবে শিখাবে সেটা আপনাকে জানা একান্ত দরকার।

আসলে তারা আপনাকে একটা পরিবেশ দিবে যেখানে আপনার মনে হবে আপনি এখানে থেকে ইংরেজি শিখতে পাচ্ছেন।আসলে এটা আপনার ব্রেইন আপনাকে ধোঁকা দিচ্ছে। যেমন একজন ডাক্তার রোগীকে যদি বলেন আরে ধুর আপনার কিছুই হয় নাই। আপনি ঠিক আছেন। যেটা হয়েছে সেটা স্বাভাবিক । দুটো অসুধ খেলেই ঠিক হয়ে যাবে। তখন কি রোগীর সুস্থ মনে হবে না। মনে হবে না যে আসলেই তো আমি ঠিক আছি। আসলে হয়তো আমার কিছু হয় নাই। আমি শুধু শুধু চিন্তা করছি। এই একিই টেকনিক এখানেও কাজে লাগে।

চিন্তা করুন আপনি একটি প্রতিষ্টানের আন্ডারে যখন ভর্তি হয়ে ক্লাশ শুরু করেন। তখন থেকে আপনি কি পরিমাণ সময় দেন। এই একি সময় যদি আপনি ইউটিওব এর ভিডিও গুলো দেখেন তবে কি মনে হয় বেশি ভাল হবে না?

তারপরেও কেন আপনি ইংরেজি শিখেন না?

এটার দোষ আসলে আপনারি।

আমরা যখন মুভি দেখি তখন এত মনোযোগ দিয়ে দেখি সেটাকে ইন্টারটেইন্টমেন্ট মনে হয়। ভবিষ্যতেও যদি মুভির কোন একটি ছোট্র অংশ দেখানো হয় তবে সেই মুভির নামটি বলা সম্ভব। কিন্তু যখন কোন টিউটোরিয়াল দেখি সেটাকে ক্লাশ মনে হয়। কেন? টিউটোরিয়াল তো আরো আগ্রেহের হওয়া দরকার ছিল । এটাতে আপনি অনেক কিছু শিখতেও পাচ্ছেন আবার ভিডিও দেখেও সময়ও কাটছে। কিন্তু না এমন হবে না।

কারণ কি?

কারণ আমরা ইন্টারটেন গ্রহনে অভ্যস্থ। আমাদের বিনোদন ভাল লাগে। ক্লাশ ভাল লাগে না। শিখার কথা আসলেই সেটাকে ক্লাশ মনে হয়।

আমরা বাঙ্গালীতো ফ্রীতে কিছু শিখলে সেটা মূল্যহীন মনে করি। তাই অনেক টাকা আর সময় ব্যয করে যখন কোন প্রতিষ্টান থেকে কিছু শিখি তখন মনে হয়- এইতো এবার কিছু শিখলাম বুঝি।

আমি আবারো বলছি এই সব প্রতিষ্টান আপনাকে শুধু একটা ইনভাইরন্মেন্ট বা পরিবেশ দিবে। আর রিসোর্চ? এর চেয়ে অনেক বেশি আপনি অনলাইনে পাবেন।

হাজার হাজার মানুষ ইংরেজি শিখানোর জন্য নিজেদের ভিডিও আর আপনার কমেন্টের সমমস্যার সমাধান দেওয়ার জন্য বসে আছে। আপনার সেইদিকে নজর নাই। তোমার স্যার, আমার স্যার, অমুক স্যার অমুক স্যার। ইংরেজি শিখার প্রতিষ্ঠানে না গেলে ইংরেজি শিখা যায় না। এটা আমাদের মনের ভুল।

আপনি একবার ভাবুন তো- ইংরেজি যদি আপনার শিখতে হয় তবে ইংরেজি শিখার জন্য আপনি কার কাছে যাবেন একজন বাঙ্গালির কাছে যিনি ইংরেজি জানেন নাকি একজন ইংরেজের কাছে যার মাতৃভাষা ইংরেজি।

বুঝলেন না?

ধরুন একজন বিদেশি যিনি বাংলা ভাষা শিখবেন। আপনি একজন শিক্ষিত বাঙ্গালী আছেন আর আপনার সাথে একজন ইন্ডিয়ান লোক আছেন যিনি বাংলা বুঝনে এবং বলতেও পারেন। এবার অঈ বিদেশি লোকটাকে কে ভাল বাংলা শিখাতে পারবে? একজন বাংলাদেশি মানে আপনি নাকি একজন ইন্ডিয়ান যিনি শুধু বই আর গ্রামার পড়ে ইংরেজি শিখেছেন?

নিশ্চয় আপনি?

আপনি হয়তো শুনে থাকবেনঃ ইংরেজি শিখতে হবে ইংরেজদের মত করে। তাইলে বলতে পারি বাংলা শিখতে হবে বাঙালিদের মত করে।

ইংরেজিতে যখন একজন ব্রটিশ ইংরেজি শিখায় তখন আপনার প্রাথমিক পর্যায়ে একটু শিখতে অসুবিধা হলেও একটা সময় পর দেখবেন আপনি অনেক ভাল করছেন। আর যেহেতু ইংরেজি আপনি ব্রিটিশ এর কাছে থেকে শিখেছেন সেটা অল্প হোক এতেও আপনার অনেক কাজে লাগবে।

বুঝেন না কেন? আপনার বাসার সবচে চোট বাচ্চাটাও যে কিনা এখনো স্কুলেও যায় না সেও কিন্তু আপনার সাথে বাংলাতে বাঙ্গালির মত করে কথা বলে।

মাতৃভাষা বাংলা তাই জন্য? নাকি সে যা কথা বলে সব গুলো শব্দ আপনি তাকে মুখস্থ করিয়েছেন?

না তো। তাহলে?

সে বাংলায় কথা বলার প্যাটার্ণটা বুঝে গেছে। যে পরবর্তী জীবনে স্কুলে যাক বা না যাক বাংলায় সে কথা বলতে পারবে। দিনে দিনে হয়তো আরো জ্ঞানী আর চমৎকার সব শব্দ ব্যবহার করে বাংলা বলতে পারবে।

তাহলে এবার আপনি কি করবেন?

হবেন নাকি ইংরেজির বাচ্ছা?

তাহলে শিখতে হবে বিদেশিদের কাছে। কিভাবে তারা ইংরেজিতে কথা বলে। কোন জিনিসের কি কি ভংগিমায় কথা বলে সব দেখুন আর শিখতে থাকুন। এর ফলে হবে কি জানেন, আপনি যখন কারো সাথে ইংরেজিতে কথা বলবেন তখন এমন অনেক শব্দ আপনি ব্যবহার করবেন যেগুলো আপনি বুঝেন তো ঠিক আছে কিন্তু সেগুলোর বাংলা আপনার জানা নাই। কিন্তু তাও সমস্যা নাই আপনি সুন্দর ভাবে কথা চালিয়ে যেতে পারবেন। সামনের জনো বুঝতে পারবে না আপনি সেই বিশেষ ইংরেজি শব্দের মানে টা জানেন না। আসলে সত্যি বলতে এটার তেমন কোন প্রয়োজনও নাই।

টেন মিনিট স্কুল কিংবা এডভান্স লেবেলের কিছু কোর্স আছে যেখানে বিভিন্ন ইংরেজির লেকচারাররা ইংরজি শিখার উপরে ট্রেনিং দিয়ে থাকে। ফ্রিতে অনলাইনের কথা বলছি। আপনি এইগুলো দেখুন ক্লাস ডিটেলস দেখুন।

এবার আপনি ইউটিভবে যান দেখুন সেখানে হাজার হাজার ভিডিও পাবেন । একি বিষয়ের উপর বিভিন্ন ভাবে বিভন্ন কৌশলে ইংরেজি শিখানোর চেষ্টা করছে। একটা চ্যালনে পছন্দ করুন তার পর তাদেরর প্লেলিষ্ট থেকে ধারাবাহিকভাবে একটা একটা করে ভিডিও দেখতে থাকুন। বিশ্বাস করুন আপনি এইভাবে শিখলে এত কিছু জানতে পারবেন যেটা একটা প্রতিষ্ঠানে কোনদিনও সম্ভব নয়।

এবার কথা হচ্ছে আমি তো ইংরেজি শিকলাম এবার বলবো কই?

কাদের সাথে আমরা ইংরেজিতে কথা বলবো?

এই বিষয় নিয়ে ইন্টারনেটে অনেকেই বলবে বন্ধু বান্ধব, পরিবার কলিগ ইত্যাদি ইত্যাদি মানুষের কাছে প্রাক্টিস করতে পারেন।

তবে এই ব্যাপারে আমি কিভাবে ইংরেজিতে কথা বলা শুরু করেছিলাম সেই অবিজ্ঞাতা আপনার সাথে শেয়ার করছি । আপনার টা আপনি ইচ্ছামত সাজিয়ে নিবেন ।

আমি আমার অফিসের মাত্র ২ জন কে বেছে নিই। যারা ইংরজিতে কথা বলে না। হয়তো ইংরেজিতে কথা বলার কোন প্রয়োজনও পড়েনা। তবে তারা দুইজনই ইংরেজি বুঝেন। সঙ্গত কারনেই আমি তাদের নাম এখানে প্রকাশ করছি।

১. মিশটারঃ মিল্টন ধর। সিঃ এক্সিকিউটিভ, মেইন্টেনেন্স প্রধান, ইউনিট এ-২, কেডিএস এ্যাপারেলস লিঃ

২. মিস্টার বোরহান উদ্দিন। জুঃ এক্সিকিউটভ, ওয়েলফেয়ার অফিসার, ইউনিট এ২, কেডিএস এ্যাপারেলস লিঃ

এবার আমি করলাম, আমি মনে মনে ঠিক করলাম আমি এই দুই জনের সাথে কখনোই বাংলাতে কথা বলবো না। যা বলার ইংরেজিতেই বলবো। প্রথমে আমিও অতটা বলতে পারছিলাম না। তাই শুরুতে একটা বা দুইটা করে শব্দের পরিবর্তে ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করতাম । ধরেন সাপোস, লেট মি টক এবাউট, লুক লেট এক্সপ্লাইন হোয়াট এক্সুয়ালি হ্যাপেন্ড ইত্যাদি খুবি ছোট আর সহজ শব্দের মাধ্যমে।

কিন্তু আমি আগেই বলেছিলাম আমি আর যার সাথে কথা বাংলাতে বলি না কেন এই দুই জনের সাথে কখনোই ইংরেজি ছাড়া বাংলায় কথা বলবো না।

মাঝে মাঝে তো এমনো হয়েছে কথা বলতে গিয়েছি যা বলতে চাই সেটার ইংরেজি শব্দটাই আমার জানা নাই। কি বলবো চুপ করে আছি। কিছুক্ষণ তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিয়ে থ্যাকস ফর ইউর টাইম বলে চলে আসি।

মাঝে মাঝে ইংরেজিতে কথা বলার সময় – বলতেছি কথা ঠিক আছে খুব সহজ শব্দের পরিবর্তে এমন সব কঠিন শব্দ ব্যবহার করি যেটা বলার পর আমি নিজেই আশ্চর্য হয়ে যাই আমি এটা  না বল্লেও পারতাম কিংবা অন্যভাবেও তো কথাটা বলা যেতো।

আবার অনেক সময়ে এমনো হয়েছে যে কথা বলার সময় বাক্যটা ভুল বলতেছি। বুঝতেছি কিন্ত বলে ফেলেছি। তখন দুই জনি হাসতেছি ।

তবে বলে রাখি তারা কখনোই আমার সাথে ইংরেজিতে কথা বলে নি। আমি ইংরেজিতে কথা বলেছি তারা বাংলায় জবাব দিয়েছে। কিন্তু আমি যখন বুঝতেছি আমার একি কথার বাংলায় বলার পরিবর্তে ইংরেজিতে বলার পরও একি রকম উত্তর আসছে তখন মনে মনে সাহস পেয়ছি। না; আমার ইংরেজি কিছু তো ঠিক হচ্ছে না হলে উনি কিভাবে বুঝলেন। এক জন বুঝতে পেরেছে মানে ১০ জন বুঝতে পারবেন এরি মধ্যে হয়তো আমি আপডেট হয়ে যাবে আরো নতুন কিছু শিখতে পারবো, আরো সংশোধন আরো সাফল্য।

বলে রাখি – যখন তারা একাই থাকতো আমি কেবল তখনি কথা বলতাম। কেউ একজন কথা বলার সময় এসে গেলে কিন্তু আর কথা ইংরেজিত বলতে পারতাম না।

কিন্তু পরে একটা সময় সাহস বেড়ে গেলো। দেখি যে সব কথা ইংরেজিতে বলতে পারছি। তখন যেই ইংরেজি পারে তার সাথেই ইংরেজিতে কথা বলতে মন চায়। অন্য একজন অফিসার যখন কথা বলতে আসে আমি তার বাংলা কথার ইংরেজিতে উত্তর দেই। সে বুঝে আমি জানি। হয় সে বাংলাতে উত্তর দেয় অথবা সে ইংরেজিতে আমার সাথে যোগ দেয়।

আমি এমন অনেক দেখেছি অনেকেই আছে এমন যারা ইংরেজি বুঝে তো ঠিক আছে কিন্তু বলতে পারে না।

আমার এই ইংরেজিতে কথা বলার ফলে – অনেকেই দেখি কাজের ফাকে ফাকে আমার সাথে এসে ইংরেজিতে কথা বলে যায়। ওরাও শুরু করে আমি যেমন প্রথম্বার ছিলাম তেমন ভাবে। থেমে থেমে বলে কিন্তু চেস্টা করে আমি তাদের না বলা কথা গুলোকে ইংরেজি বললে কেমন হতো সেটা তাদের বলে দেই।

ইংরেজি শিখার বিষয়টা আমার কাছে দারুন লাগে।

আপনার ইংরেজি শিখার বিষয়টা আপনার কাছে। যেভাবে আপনি ইংরেজি শিখতে চান শিখতে পারেন।ভাল কোন পরামর্শ থাকলে আমাকে জানাবেন। আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো।

লেখাটা সম্পূর্ণ নিজের আমার নিজের মতামত। যদি আপনার গ্রহণযোগ্য মনে হয় নিতে পারেন। তাহলে আমি অত্যন্ত দুঃখিত, বোধ হয় এই পোস্টটা আপনার জন্য ছিল না।

ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.