Home / আত্ম উন্নয়ন / শ্রোতাদের মন জিতে নেওয়ার কৌশল। পর্বঃ ১/২

শ্রোতাদের মন জিতে নেওয়ার কৌশল। পর্বঃ ১/২

একজন সফল বক্তা হিসেবে আপনি কিভাবে আপনার শ্রোতাদের মন জয় করতে পারেন। কিভাবে আপনি দর্শকের হাততালি পাবেন এই সব কিছুর বিস্তারিত এখানে আলোচনা করা হয়েছেঃ

 

একজন সফল বক্তা হতে চাইলে আপনাকে শ্রোতাদের হৃদয় জয় করতে হবে। আপনাকে কথা বলতে হবে তাদের জন্য।তাদের সমস্যা, অসুবিধা, উৎসাহ, দুঃখ-কষ্ট সব কিছু আপনার কথায় উঠে আসতে হবে।

শ্রোতাদের মনের মত কথাঃ

আপনি যদি একজন সফল বক্তা হতে চান তাহলে আপনার দর্শক বা শ্রোতারা যা শুনতে চায় আপনাকে তাই বলতে হবে। একজন সফল বক্তা তিনিই হতে পারেন যিনি শ্রোতাদের পছন্দের কথাটা মাথায় রাখেন।আপনি যখনিই শ্রোতাদের দেশ, তাদের পেশা,তাদের স্থানীয় সমস্যার ব্যাপারে কথা বলবেন, তখন শ্রোতারা বক্তার আন্ত্ররিকতা অনুভব করবেন এবং শ্রোতারা আপনাকে সম্মান করবেন।

আপনি কিভাবে একজন শ্রোতার মনে মত কথা বলবেন?

একটা উদাহরণ দিচ্ছিঃ ধরুন আপনি বড়শি নিয়ে মাছ ধরতে পছন্দ করেন। আপনি ভাবলেন এবারের ছুটির দিনে বড়শি হাতে মাছ ধরা যাক।যেমন আপনার ইচ্ছা; যথারীতি বড়শি নিয়ে মাছ ধরতে যাবেন। আপনি প্রস্তুত। আপনার বাড়ীওয়ালি আপনার প্রিয় পছন্দ পায়েস রান্না করে আপনার হাতে দিলেন। আপনি আনন্দিত।পায়েস খেতে খেতে মাঝ ধরা বেশ চমৎকার হবে। যথারিতি মাছ ধরার সময় আপনি ভাবলেন পায়েস দিয়ে মাছ ধরা যাক। আপনারাও ভাল লাগবে আর মাছেরাও ভাল মন্দ একটু খাওয়া দাওয়া করুক! এবার পায়েস ছিটিয়ে আপনি বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে শুরু করলেন।

বলুন তো মাছ কি ধরা পড়বে? না।

“তাহলে আপনার বড়শি দিয়ে মাছ ধরার জন্য মাছ যা খেতে পছন্দ করে আপনাকে তাই দেওয়া দরকার ছিল; আপনি কি পছন্দ করেন সেটা নয়”

এই একই পদ্ধতিতে আপনি যখন কারো সামনে কোন ভাষণ বা বক্ততা দিচ্ছেন এই পদ্ধতি কাজে লাগান। আপনার দর্শক আপনার কাছে কি শুনতে চায় সেটা আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন। আপনি সেই ফর্মুলা কাজে লাগান। হু হু করে দর্শকের হাততালি পড়তে শুরু করবে।

আপনার আর শ্রোতাদের জীবনের সাথে যুক্ত কথা, জীবনের ছোট ছোট খুশি আর দুঃখ আপনার ভাষনের মধ্যে চলে আসলে মূহুর্তেই আপনি শ্রোতাদের মধ্যে আপন হয়ে উঠবেন।

অতীতে যদি আপনি যে এলাকায় বক্তব্য দিতে চাইছেন সেই এলাকায় এসে থাকেন, তখন যদি আপনার কোন বিশেষ অবিজ্ঞতা থেকে থাকে তবে খুব সহজ শব্দে সেগুলো আপনি প্রকাশ করতে পারেন। বক্তব্য প্রদানের সময় বক্তার আলোচনায় যদি আগেরকার কোন স্থানীয় ঘটনার কথা উল্লেখ হয়ে যায় তবে এটা শুনে শ্রোতারা বিষ্ময়ে ভরে উঠবেন যে, এসব আপনি কি করে জানলেন?

শ্রোতাদের একজন হয়ে উঠুনঃ

1 শ্রোতাদের মনের মত কথাঃ 2 শ্রোতাদের একজন হয়ে উঠুনঃ 3 শ্রোতাদের সত্তিকারের প্রশংসা করুন 4 শ্রোতাদের সরাসরি নিন্দা করবেন নাঃ 5 শ্রোতাদের নিজের সংক্রামক উৎসাহ প্রদান করুনঃ 6 উদাহরণ নিজের জীবন থেকে দিবেনঃ 7 সফল ব্যক্তিদের উদাহরণ ব্যবহার করুন

আপনি একজন সফল বক্তা হয়ে উঠতে চাইলে আপনাকে আপনার শ্রোতাদের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার চেস্টা করতে হবে।

“আপনার ঠিক এমনভাবে কথা বলা উচিৎ, যেন আপনি নিজে সেই শহরেরই লোক আর আপনি সেই শহরকে প্রচন্ড ভালবাসেন”

আপনার দর্শকদেরকে এটা আপনাকে বুঝাতে হবে।

আপনি যদি আগে কখনো এই শহরে এসে থাকেন, তাহলে সেটার উল্লেখ করুন। বিশেষ কোন স্মৃতিচিহ্ন থাকলে সেটা বলতে পারেন।

আপনি যদি সেই সময়ের শ্রোতাদের মধ্যে উপস্থিত কিছু লোককে চিনে থাকেন আর তারা যদি প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে সেটা উল্লেখ করুন।

শ্রোতারা আপনার প্রতি যত বেশি আপনত্ব অনুভব করবেন, তত বেশি ওঁরা আপনার ওপরে বিশ্বাস অনুভব করবেন।

শ্রোতাদের সত্তিকারের প্রশংসা করুন:

একজন সফল বক্তা হিসেবে আপনি কিভাবে আপনার শ্রোতাদের মন জয় করতে পারেন। কিভাবে আপনি দর্শকের হাততালি পাবেন এই সব কিছুর বিস্তারিত এখানে আলোচনা করা হয়েছেঃ

আজকের শ্রোতারাও অনেক বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছে। বক্তা যখন তাদের প্রশংসা করেন তখন তাঁরা ঠিকই বুঝতে পারে কোন আসল প্রসংসা আর কোনটা নকল।

বক্তব্য দেওয়ার সময় কখনো শ্রোতাদের মিথ্যা মিথ্যা প্রশংসা করবেন না।

একটা উদাহরণ দিচ্ছিঃ এক বক্তা তার বক্তব্য শুরু করলেন ঠিক এই ভাবে

“আপনারা আমাকে স্বাগত জানিয়ে আমার কপালে টিপ পরিয়েছেন, এতে আমি সত্যিই আপ্লুত। আমার নিজের মায়ের কথা মনে পড়ে গেছিল, যিনি আমাকে সর্বদা আমার কপালে টিপ পরাতেন”

শ্রোতাদের প্রসংসা ঠিক মত করতে পারলে আপনি খুব সহজেই শ্রোতাদের হৃদয় জয় করে নিতে পারবেন। শ্রোতাদের সম্পর্কে আপনার ধারণা পরিষ্কার করে দিতে পারেন। বলতে পারেন

“আপনাদের সম্পর্কে আমার খুব সাধারণ ধারণা ছিল, কিন্তু আপনাদের চিন্তাধারা আমার আশার তুলনায় অনেক বেশি। আপনাদের এই অসাধারণ চিন্তাধারা আমার আগের ধারণাকে মিথ্যে প্রামাণিত করে দিয়েছে”

শ্রোতাদের এই প্রশংসা করার ব্যাপারটা আপনি একটু চেস্টা করলেই রপ্ত করতে পারবেন। মানুষের প্রশংসা করার উপকরণ অনেক সহজ । শুধু প্রয়োজন হৃদয় খুলে মানুষের প্রশংসা করার স্বদিচ্ছা।

শ্রোতাদের সরাসরি নিন্দা করবেন নাঃ

6 উদাহরণ নিজের জীবন থেকে দিবেনঃ 7 সফল ব্যক্তিদের উদাহরণ ব্যবহার করুনঃ 8 নিজের উপরে হাসার সাহস করুনঃ 9 ক্ষমা প্রার্থনা করে শুরু করবেন নাঃ 10 অন্য কারো নকল করবেন নাঃ 11 এক সাধারণ ব্যক্তির মত নিজের কথা বলুনঃ 12 সাফল্যের জন্য নিজের মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করুনঃ

আপনার সমস্থ প্রচেস্টা আপনার শ্রোতাদের নিয়ে। তাঁরা যাতে আপনার কথা ভাল ভাবে বুঝতে পারে, তারা যাতে আপনার কথা শুনে উৎসাহিত হয় সেটাই একজন বক্তা হিসেবে আপনার লক্ষ্য।তাই আপনার শ্রোতাদের কখনো আপনি নিরাশ করবেন না। তাদের সরাসরি নিন্দা করবেন না।

কথা বলার সময় আপনি কখনো কোন অপমানজনক শব্দ বা কঠোর হয়ে কথা বলবেন না। এই ধরণের কাজ আপনি যত বেশি এড়িয়ে চলতে পারবেন আপনি তত বেশি মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারবেন।

কথা বলাটা হচ্ছে একটা আর্ট। এই আর্টটা আপনি একবার আয়ত্বে নিতে পারলে আপনি আপনার জীবনের সাফল্য পেতে বেশি দেরী হবে ন।

শ্রোতারা রেগে উঠতে পারে এমন কোন কথা বলবেন না। আপনি যদি কোন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে চান যেটা আপনি জানেন আপনার শ্রোতাদের মধ্যে সেই কথার মাহার্ত্য বোঝা মুস্কিল। কিন্তু তবুও আপনি বলবেন না আপনি যেই কথা বলতে চাইছেন সেই কথা বোঝার সাধ্য উপস্থিত জনতার নেই।

একজন বক্তার কথায় কখনো অহংকারবোধ প্রকাশ করা যাবে না।

উপস্থিত শ্রোতাদের তাদের আচরণ, ভাষা, ধর্ম কিংবা আঞ্চলিক কোন জনপ্রিয় সংস্কৃতি নিয়ে কখনো কোন বাজে মন্তব্য করবেন না।

শ্রোতাদের নিজের সংক্রামক উৎসাহ প্রদান করুনঃ

শ্রোতাদের মন জিতে নেওয়ার কৌশল

আপনার কথা বলার সময় আপনি আপনার শ্রোতাদের সামিল করুন। শ্রোতাদের আপনার আলোচনায় অংশ নিতে বলুন। মাঝে মাঝে তাদের প্রশ্ন করুন তাদের কোন বিষয়ে মতামত জিজ্ঞাসা করুন। শ্রোতাদের প্রচুর পরিমাণে উৎসাহিত করুন। সবার দিকে তাকিয়ে আত্নবিশ্বাসের সাথে কথা বলুন।

বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, আপনার উৎসাহ আপনার মুখ আর শরীরের মধ্যে ফুটে ওঠা উচিত।আপনার আত্নবিশ্বাসের সঙ্গে আপনার সেই আত্নবিশ্বাস শ্রোতাদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া উচিৎ। আপনার কথার মাধ্যমে আপনার উৎসাহ উপস্থিত শ্রোতাদের রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে তুলবে।

উদাহরণ নিজের জীবন থেকে দিবেনঃ

উদাহরণ নিজের জীবন থেকে দিবেনঃ

একজন বক্তার জন্য তার জীবনে ঘটে চলা প্রতিটি মূহুর্ত, প্রতিটি ঘটনা একটা একটা উপকরণ। তার বক্তব্য প্রদানের সময় সেই সমস্থ ঘটনা উঠে আসে। এইজন্য আপনি প্রায়ই বিভিন্ন বিদেশি বক্তার কথা বলার সময় তার নিজের জীবনের কোন ঘটনার উল্লেখ পাবেন। এটাকে অনেকে স্টোরি টেলিং নামেও জেনে থাকতে পারেন।

স্টোরি টেলিং একটা আর্ট। আপনি যখন কথা বলার সময় কোন একটা ঘটনা জুড়ে দিলেন সেটা আপনার কথা বলাকে আরো বেশি প্রাণবন্ত করে তুলবে। বাস্তব উদাহরণ গুলো মানুষের হৃদয়ে বিদ্যুতের মত কাজ করে।

নিজের জীবনে উকি মাড়ুন। আপনার ছোট বেলায় ফিরে যান, স্কুলের মাঠ, খেলার সাথী, বেড়ে উঠা, ঘটনা ইত্যাদি নানা উদাহরণ পাবেন যেগুলো আপনি আপনার কথার মাঝে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

ধরুন আপনার স্কুলে একটা পূর্নমিলনি অনুষ্ঠানে আপনি কথা বলতে চাইছেন। আপনি হয়তো জীবন থেকে অনেক বেশি অবিজ্ঞতা লাভ করেছেন আর সেই সমস্থ কথা আপনি অধির আগ্রহে এখানে বলতে চান। বিষয়টি যদি আপনি আপনার সেই স্কুলে থাকাকালিন আপনার জীবনের বিশেষ কোন ঘটনার সাথে মিলিয়ে এখনকার অবিজ্ঞতা জুড়ে দিতে পারেন তাহলে সেটা বেশ হবে।

মনে রাখবেন সত্যিকারের অবিজ্ঞতা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে থাকে। মানুষ আপনার সেই অবিজ্ঞতা শুনে আপনাকে মনে রাখতে পারবে অনেক বেশি। আপনার সেই সমস্থ ঘটনা যদি তাদের বাস্তবতার সাথে মিলে যায় তাহলে শ্রোতা কিছুক্ষণের জন্য আয়নায় নিজেকে দেখার মত অবস্থায় চলে যায়। আপনাকে তাঁরা নিজেদের করে নেয়।

শুধুমাত্র থিওরী আর বড়-বড় কথায় লোকেরা “বোর” হয়ে উঠে। এমন এমন কথা তুলে ধরুন, যাতে উপস্থিত সবাই বিস্মিত হয়ে ওঠেন। দেখবেন, আপনার প্রতিটা ভাষণের জন্য লোকেরা অপেক্ষা করে রয়েছেন।

দুই পর্বের প্রথম পর্বের আলোচনা এই পর্যন্ত। এই বিষয়ের বাকী আলোচনা দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা করা হয়েছে।

সেখানে পাবেনঃ

সফল ব্যক্তিদের উদাহরণ ব্যবহার করুনঃ

নিজের উপরে হাসার সাহস করুনঃ

ক্ষমা প্রার্থনা করে শুরু করবেন নাঃ

অন্য কারো নকল করবেন নাঃ

এক সাধারণ ব্যক্তির মত নিজের কথা বলুনঃ

সাফল্যের জন্য নিজের মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করুনঃ

দ্বিতীয় পর্বে যেতে এখানে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.