Home / আত্ম উন্নয়ন / শ্রোতাদের মন জিতে নেওয়ার কৌশল? পর্বঃ ২/২

শ্রোতাদের মন জিতে নেওয়ার কৌশল? পর্বঃ ২/২

একজন সফল বক্তা হতে চাইলে আপনাকে শ্রোতাদের হৃদয় জয় করতে হবে। আপনাকে কথা বলতে হবে তাদের জন্য।তাদের সমস্যা, অসুবিধা, উৎসাহ, দুঃখ-কষ্ট সব কিছু আপনার কথায় উঠে আসতে হবে।

শ্রোতাদের মনের মত কথাঃ

শ্রোতাদের একজন হয়ে উঠুনঃ

শ্রোতাদের সত্তিকারের প্রশংসা করুন

শ্রোতাদের সরাসরি নিন্দা করবেন নাঃ

শ্রোতাদের নিজের সংক্রামক উৎসাহ প্রদান করুনঃ

উদাহরণ নিজের জীবন থেকে দিবেনঃ

এই পর্বে এই টপিকের উপর বাকী অংশ নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ

সফল ব্যক্তিদের উদাহরণ ব্যবহার করুনঃ

সফল ব্যক্তিদের উদাহরণ ব্যবহার করুনঃ

মনে আছে স্কুলের পড়া রচনার মধ্যে প্রায়ই কোন বিশেষ কবিতার লাইন কিংবা বিখ্যাত ব্যক্তির উক্তি দিয়ে শুরু হতো?

কথা বলার সময় এই বিখ্যাত ব্যক্তির রেফারেন্সে কিছু বলাটা অনেক পুরনো ট্রিক্সস। তারপরেও এটি সব সময়ের জন্য কার্যকর। আপনি খেয়াল করে দেখবেন দুইজন ব্যক্তির মধ্যে যখন কথা বলা চলতে থাকে তখন যদি অন্য আরেকজন যিনি ঐ আলোচনার বিষয়বস্তুর বিষয়ে অভিজ্ঞ এমন ব্যক্তির রেফারেন্সে কথা বলতে সেই কথা অনেক বেশি বিশ্বাস যোগ্য মনে হয়।

সফল ব্যক্তিদের জীবন্ত উদাহরণ ব্যবহার করলে শ্রোতারা অদ্ভুদ এক আন্তরিকতা অনুভব করেন। আপনার দেওয়া সেই উদাহরণের মধ্যে শ্রোতা নিজেদের খোজার চেস্টা করেন।

তাই আপনি যখন কথা বলবেন নিজের আশে পাশের এমন ব্যক্তিদের বেঁছে নিন, যারা কোন সময় অত্যন্ত সাধারণ ছিলেন আর নিজের পরিশ্রম দ্বারা আজ সাফল্যের শিখরে পৌছে গেছেন।

এই সকল বাস্তব উদাহরণ সবদাই মানুষের মনে দাগ কেটে যায়। তাদের মস্তিষ্ককে নাড়া দেয়।

আপনি যখন কথা বলবেন তখন বিখ্যাত কোন ব্যক্তির রেফারেন্স দিয়ে কথা বলে দেখতে পারেন কি রকম ফিড ব্যাক পাওয়া যায় সেটা যাচাই করে দেখতে পারেন।

 

নিজের উপরে হাসার সাহস করুনঃ

একজন সফল বক্তা হিসেবে আপনি কিভাবে আপনার শ্রোতাদের মন জয় করতে পারেন। কিভাবে আপনি দর্শকের হাততালি পাবেন এই সব কিছুর বিস্তারিত এখানে আলোচনা করা হয়েছেঃ

মিরাক্কেলের মত স্ট্যান্ড আপ কমেডিতে কখনো খেয়াল করেছেন কি সেখানে কমেডিয়ান সবথেকে বেশি নিজের উপরে কমেডি করে থাকেন। নিজেকে হাসির পাত্র করে সবার সামনে তুলে ধরেন।

নিজের উপর হাসার চেস্টা করাটা বিশাল বড় একটা সাহস।

নিজেকে ছোট করা বা নিজের ওপরে হাসাটা হচ্ছে এক বিরাট বড় আর্ট। আপনি নিজের প্রতি হতে চলা তীব্র সমালোচনাকেও নিজের উপরে হেসে সেটাকে প্রভাবশীল করে দিতে পারেন।

এই নিজের উপরে হাসাটা একজন ব্যক্তির বিনম্রতাকে ফুটিয়ে তোলে। আপনার আত্নবিশ্বাস আর আত্নসম্মান প্রদর্শন করে। আপনার সাহসের পরিচায়ক হয়।

আপনার এই নিজের উপরে হাসার চেস্টাটা করার অনেক বড় একটা ফায়দা আছে।এতে আপনার শ্রোতারা এই ভেবে অনুপ্রাণিত হয় যে আপনিও অন্যদের মত জীবনে অনেকবার ব্যর্থ হয়েছেন। এবং আপনার সাফল্যের ব্যাপারে জীবনে কত চেস্টা করেছেন সেটাও এখান থেকে জানা যায়। শ্রোতারা আপনাকে আপন অনুভব করতে শুরু করেন।

ক্ষমা প্রার্থনা করে শুরু করবেন নাঃ

ক্ষমা প্রার্থনা করে শুরু করবেন নাঃ

আপনি কখনো ক্ষমা প্রার্থনা করে আপনার বক্তব্য শুর করবেন না। এভাবে কখনো বলবেন নাঃ

“আমার মত এক হীন ব্যক্তাকে আমন্ত্রণ করে আপনারা সম্মান প্রদর্শন করেছেন”।

এতে করে আপনার বক্তব্যের উপর ভুল প্রভাব করতে পারে।আপনি যখন আমন্ত্রিত হয়েছেন তখন নিশ্চয় কোন কারণ থাকবে। আপনাকে আপনার সেই ভুমিকা পালন করতে হবে। শুরুতেই ক্ষমা চেয়ে আপনার শ্রোতাদের সময় নষ্ট করবেন না।

আপনি যতটুকু বলতে চান আত্নবিশ্বাসের সাথে সেটুকু বলে যান। আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করুন।

একান্তই আপনাকে যদি বিশেষ কোন ব্যাপারে ক্ষমা চাইতে হয় তবে বক্তব্য প্রদানের মাঝে প্রাসঙ্গিকতা বুঝে ক্ষমা চাইতে পারেন। যদিও এটার কোন প্রযোজন নেই।আসলে আপনি যদি ক্ষমা প্রার্থনা করে বক্তব্য শুরু করতে চান তাহলে শ্রোতারা ভাবে তাঁরা হয়তো ভুল ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এতে করে শ্রোতাদের আপনার কথা বলার উপর মনোযোগ থাকবে না।

তাই বক্তব্য প্রদানের সময় ক্ষমা প্রার্থনা থেকে বিরত থাকুন।

অন্য কারো নকল করবেন নাঃ

সফল ব্যক্তিদের উদাহরণ ব্যবহার করুনঃ

আপনি যদি কারো নকল করতে গিয়ে নিজস্ব মৌলিকতা হারিয়ে বসেন, তাহলে আপনি আসলও হারাবেন আর তার সঙে সঙে সুদও।তাই আপনি যখন কোথাও বক্তব্য প্রদান করবেন তখন নিজের একটা আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলার চেস্টা করুন।

আপনি চাইলে বিখ্যাত ব্যক্তিদের বিভিন্ন উদাহরণ ব্যবহার করতে পারেন তবে সেটা নিজস্ব শৈলিতে।

আপনি বিভন্ন মানুষের কথা বলার ধরণ, তাদের বডি ল্যাংগুয়েজ ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। তবে সেটাকে অনুকরণ করতে যাবেন না।

আপনি যখন কাউকে নকল করতে যাবেন তখন আপনার দেহ-মন স্বাভাবিক অবস্থায় যেসব ভাবনাকে ব্যক্ত করতো, সেগুলোকে নকল করার সময় ব্যক্ত হয় না।

তাই সব সময় স্বাভাবিক থাকুন নিজেস্ব শৈলীতে কথা বলুন।

এক সাধারণ ব্যক্তির মত নিজের কথা বলুনঃ

আপনাকে আপনার শ্রোতাদের হৃদয়ে নাড়া দিয়ে কথা বলতে হবে। সাধারণ কথায় এটার প্রভাব বেশি হয়। বক্তব্য প্রদানের সময় বড় বড় ব্যক্তিদের মত মহান কথা বলার সময় একজন সাধারণ ব্যক্তির মত করে কথা বলুন।

সাহিত্যিক কথাবার্তা আর বড় বড় কথা প্রসংসিত হতে পারে কিন্তু সাধারণ কথার প্রভাব মানুষের হৃদয়ে বেশি ছাপ ফেলে।

কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি যত সাধারণ কথা বলেন তিনি তত বেশি বিখ্যাত হয়ে উঠেন।

আপনার কথায় আপনার শ্রোতাদের তাদের জীবনের নানা কথা চলে আসবে তাই আপনি যদি একজন সাধারণ মানুষের মত করে কথা বলেন তবে সেটা আপনাকে এক উচু লেবেলের ব্যক্তায় পরিণত করবে।

সাফল্যের জন্য নিজের মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করুনঃ

1 শ্রোতাদের মনের মত কথাঃ 2 শ্রোতাদের একজন হয়ে উঠুনঃ 3 শ্রোতাদের সত্তিকারের প্রশংসা করুন 4 শ্রোতাদের সরাসরি নিন্দা করবেন নাঃ 5 শ্রোতাদের নিজের সংক্রামক উৎসাহ প্রদান করুনঃ 6 উদাহরণ নিজের জীবন থেকে দিবেনঃ 7 সফল ব্যক্তিদের উদাহরণ ব্যবহার করুনঃ 8 নিজের উপরে হাসার সাহস করুনঃ 9 ক্ষমা প্রার্থনা করে শুরু করবেন নাঃ 10 অন্য কারো নকল করবেন নাঃ 11 এক সাধারণ ব্যক্তির মত নিজের কথা বলুনঃ 12 সাফল্যের জন্য নিজের মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করুনঃ

হাদিসে আছে “সমস্থ কাজের ফলাফল নির্ভর করে নিয়তে উপর”।

আমরা আমাদের মস্তিষ্ক বা ব্রেইনকে যেমন বার্তা দিয়ে দেই সে সেই অনুযায়ী কাজ করতে থাকে। আমরা যদি প্রতিনিয়ত ওকে কেন আমরা পারছি না, কেন আমাদের দ্বারা হবে না সেই সকল তথ্য প্রতিনিয়ত সরবরাহ করতে থাকি তাহলে আমাদের ব্রেইনও সেই কাজ কেন আমরা পারবো না সেই সকল কারণ একত্র করতে থাকে । যা আমাদের আত্নবিশ্বাস নষ্ট করে।

আমরা যদি সব সময় আমাদের ব্রেইনকে আমাদের জয়ের ব্যাপারে তথ্য সরবরাহ করতে থাকি তাহলে ব্রেইন সেটার পিছুনে হাজারো যুক্তি বের করতে থাকে। সেই কাজ আমরা কেন পারবো তার নানা উপায় বের হতে থাকে।

আমাদের নিয়তের উপর অনেক কিছু নির্ভ করে।

প্রায়ই দেখা যায়  আমরা বক্তব্য প্রদানের জন্য প্রস্তুত হওয়া সত্বেও অনেক সময় সঠিকভাবে আমাদের কথা শ্রোতাদের মাঝে পৌছে দিতে পারি না। এটার মূল কারণ হচ্ছে আমরা আমাদের নিজেদের সময় দেই না। আপনাকে এটা মনে প্রাণের বিশ্বাস করতে হবে আপনি পারবেন। আপনার জয় হবেই হবে। তাহলে আপনি সত্যিই পারবেন।

সাফল্যের জন্যে আজ এবং এক্ষুনি আপনার ব্রেইনকে প্রস্তু করুন।

 

বক্তব্য প্রদান বা উপস্থাপনের সময় কিভাবে শ্রোতাদের হৃদয় জয় করা যায় সেই সকল বিষয়ে এখানে ধারণা দেওয়া হয়েছে মাত্র। এইগুলো আপনার প্রস্তুতি গ্রহণে সহায়ক হবে বলে আমার বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published.