Home / ডিজিটাল মার্কেটিং / অনলাইন মার্কেটিং / গুগলের নতুন আপডেটগুলি কি কি

গুগলের নতুন আপডেটগুলি কি কি

গুগল এই নতুন গুগল অ্যালগরিদমগুলি ছাড়াও আরো অনেক কিছু করে।

এখন সবাই গুগলের নতুন আপডেটের ব্যাপারে জানে। সবাই এটা নিয়ে কথা বলছে। তবে গুগল এই নতুন গুগল অ্যালগরিদমগুলি ছাড়াও আরো অনেক কিছু করে।

তারা তাদের মার্কেটিং জগতে একটা বিপ্লব আনতে যাচ্ছে। এমন কিছু তারা পরিকল্পনা করছে যা আগে কেউ কখনো করে নি। এবং তারা যে গুগুল , গুগল মানেই যে যা চিন্তা করা যায় তার চেয়ে বেশি কিছু সেটা আবারো প্রামণ করছে।

তো গুগলের সেই নতুন পরিবর্তনগুলো কি কি?

পরিবর্তন # ১ :  গুগল এক্সিকিউটিভরা অ্যাম্বিয়েন্ট কম্পিউটিং এ অনেক বড়ঃ

অ্যাম্বিয়েন্ট কম্পিউটিং এর সংজ্ঞাটা এভাবে দেওয়া যায়- অ্যাম্বিয়েন্ট কম্পিউটিং এমন একটি শব্দ যেখানে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা, মেশিন অথবা মানুষের মিথস্ক্রিয়া এবং শেখার সংমিশ্রণের সমষ্টি যা অগোচরেই একজন ব্যবহারকারীকে কম্পিউটার বা ইন্টারনেটের ব্যবহার সক্ষম ডিভাইসের ব্যবহার করার ইচ্ছা তৈরী করে।

অথবা সহজে বলতে গেলে- গুগল চায় আপনি ২৪ ঘন্টা সপ্তাহে ৭ দিন তাদের প্রডাক্ট ব্যবহার করুন। তা আপনি যেখানেই থাকুন না কেন। তারা তাদের প্রডাক্ট এমনভাবে ডিজাইন করছে যে আপনি যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন তাদের প্রডাক্ট ব্যবহার করতে পারবেন।

এটি হতে পারে এন্ড্রোয়েড ডিভাইজ, ক্রোমবুকস, স্মার্টওয়াচ, গুগল হোম বা অন্যকিছু।

তাদের মিশন হলো তাদের প্রডাক্ট সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া। মানুষজন যাতে তাদের প্রডাক্ট ব্যবহার করে তার জন্য তাদের নিত্য নতুন ফিচার সমৃদ্ধ প্রডাক্টের জুড়ি নেই।

যার সুস্পষ্ট উদাহরণ হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কাজ করে এমন সব মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। পৃথীবির সব থেকে দামি দামি প্রতিষ্ঠানের তাদের কাজের অধিকাংশ এ্যাপসগুলি এখন অ্যান্ড্রয়েড ফোনে চলছে।

আপনার হয়তো মোবাইল এ্যাপস সম্পর্কে আইডিয়া থাকতে পারে কিন্তু ভেবে দেখুন একটা মোবাইলের এ্যাপস আপনাকে কত বড় একটা আইডিয়া দিতে পারে যেখানে ১৩ বিলিয়ন মোবাইল ব্যবহারকারীর কাছে প্রায় ২ মিলিয়ন মোবাইল এ্যাপস আছে।

একবার চিন্তা করুন!

গুগল চায় আপনি ২৪ ঘন্টা সপ্তাহে ৭ দিন তাদের প্রডাক্ট ব্যবহার করুন।

দিনকে দিন অ্যান্ড্রোয়েড ফোনের ব্যবহারকারী এবং এর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বেড়েই চলছে।

তাদের আরেকটি অনন্য সেবা হচ্ছে ভয়েজ অনুসন্ধান। অর্থাৎ কোন প্রকার টাইপিং না করে শুধু মাত্র কথা বলেই কাঙ্ক্ষিত সেবাটি পেতে পারেন। আপনি জেনে অবাক হবেন মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে যত সার্চ হয় তার প্রায় ৫০% এখন ভয়েস-ভিত্তিক।

 

পরিবর্তন # ২  : ভবিষ্যতের প্রজন্ম গুগল ডিভাইসের প্রতি ঝুকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশিঃ

আপনি গুগলের কয়টি সার্ভিসের কথা জানেন? সম্ভাবত বেশি না। তবে আপনার বাড়িতে যদি কোন বাচ্চা বা ভাগ্নে ভাগ্নীকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।চমকে উঠবেন নিশ্চিত!

আজকালকের তরুন প্রজন্ম প্রযুক্তি ব্যবহারে অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। তারা তাদের সব কাজ প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে করছে। আর এই সুযোগটাকে যথাযথ কাজে লাগানোর চেস্টা করছে বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গুগল। দ্যা ওয়ান এ্যান্ড অনলি গুগল।

আপনি নিশ্চয় জেনে থাকবেন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মত কিছু দেশে ৬০% স্কুলে ক্রোমবুক ব্যবহার করে। চিন্তা করুন এবার ব্যাপারটা!

অ্যাপলও গুগলের মতই ক্লাশরুম গুলোতে প্রবেশের চেষ্টা করছে তবে তার এত বেশি গুগলের মত সাফল্য পায় নি।

এই সমস্থ তথ্যের সোজাসুজি অর্থ হলো বাচ্চারা গুগল ডিভাইজগুলি ব্যবহার করতে করতে বড় হয়ে চলেছে এবং ভবিষ্যতে এটির উপরেই তারা নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

অবশ্যই, ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, বা টিকটকের মত সামাজিক সাইটগুলি সর্বদা জনপ্রিয় হবে তবে এই তরুণরা গুগল ডিভাইজ ব্যবহার করেই এই গুলির সাথে মুলত পরিচিত হবে।

পরিবর্তন # ৩ : গুগল ই-কমার্স জগতে বড় কিছু প্রত্যাশা করেঃ

যদি আপনি পৃথীবি বিখ্যাত ই-কমার্সের কথা ভাবেন তবে কী নাম আপনার মনে আসে?

আমাজন? , আলিবাবা?

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স কোম্পানি হচ্ছে আমাজন।আমরা যখন কোন কিছু কেনার জন্য বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করছি তখনো আমরা সাধারণত মনের অজান্তেই আমাজনের তালিকাতে ক্লিক করি। কারণ তাদের প্রাইম শিপিং বৈশিষ্ট্য এতই চমৎকার আপনাকে তাদের প্রডাক্ট এবং অফার মুদ্ধ করবেই।

গুগল এই ই-কমার্স বাজারের একটা দখল নিতে চেস্টা করছে। তাদের “গুগল শপিং” এর মাধ্যমে। মানুষ এখনো অনলাইনে কেনা কাটার ক্ষেত্রে হয় আমাজনকে বেছে নিচ্ছে অথবা ওয়ালমার্ট বা অন্য কোন অনলাইন শপিং কোম্পানি।

কাস্টমার হিসেবে মানুষ হয়ত আমাজনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তবে এটার পরিবর্তণ আসবে। গুগল যদিও এখনো বড় কোন ই-কমার্স কোম্পানিকে কিনে নেয়নি তবে “ইন্সট্রাকার্ট” এর মত ছোট কোম্পানি তাদের দখলে আছে।

গুগলের যে বড় বড় পরিকল্পনা এবং তাদের যে মার্কেটিং কৌশল তাতে আমার বিশ্বাস খুব শীঘ্রই এই ই-কমার্স খাতে একটা বড় পরিবর্তণ আসবে।

পরিবর্তন # ৪ : গুগল হার্ডওয়্যার শিল্পে আধিপত্য করবেঃ

এটার অর্থ আমি এটা বুঝাচ্ছি না যে তারা আইপ্যাড বা আইফোনের চেয়ে আরও ভাল কিছু তৈরী করতে চলছে।

অবশ্যই অ্যাপল সব সময় আশ্চর্যরকম ডিভাইস তৈরীর ক্ষেত্রে স্পষ্টতই বিজয়ী। তবে একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন অ্যাপল ডিভাইজ এবং স্যামসাং ডিভাইসগুলির মধ্যে একটি বড় সমস্যা রয়েছে।

তারা ব্যয়বহুল।

যদি আপনি একটি ব্রান্ড নিউ আইফোন কিনতে চান তবে আপনাকে কমপক্ষে ৳৮০,০০০ টাকার উপরে গুনতে হবে।

আপনি যদি ভারতীয় উপমাহাদেশ কিংবা এশিয়ার মার্কেটের কথা ভাবেন তাহলে তাদের জন্য আইফোন বা আইপ্যাড ডিভাইসগুলি খুব ব্যয়বহূল।অন্যদিকে গুগল ডিভাইসগুলি দিনকে দিন আরো চমৎকার সব নিত্য ব্যবহার্য প্রডাক্ট দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করার চেস্টা করছে।

গুগল তারা সাশ্রয়ী মূল্যের ভিভাইসগুলি উৎপাদনের চেস্টা করছে। তারা অন্য নির্মাতাদের তাদের তৈরী অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে দিচ্ছে। যেটা তাদের মার্কেট ধরতে ব্যাপক সহযোগীতা করছে।

তারা প্রত্যেকটি ফোন বিক্রি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে চাচ্ছে না। তারা চাইছে তাদের তৈরী প্রডাক্ট সবাই ব্যবহার করুক।

কেন?

কারণ মানুষ যত বেশি তাদের প্রডাক্ট ব্যবহার করবে তারা তত বেশি ডাটা সংগ্রহ করতে পারবে। যত বেশি ডাটা সংগ্রহ করতে পারবে তত বেশি সে গুলো জেনারেট করে দ্রুত সময়ে আরো বেশি তথ্য সরবরহ করতে পারবে। যার ফলে বিজ্ঞাপন প্রচুর বেড়ে যাবে।

পরিবর্তন # ৫ : গুগল বিজ্ঞাপন অফলাইনে যাওয়ার চেস্টা করছেঃ  

এটা ঠিক যে আপনি এখন গুগলের বিজ্ঞাপনগুলি শুধু অনলাইনেই দেখতে পাচ্ছেন। তবে এখনো বিজ্ঞাপন জগতে অফলাইনেই প্রায় একশো বিলিয়ন ডলারের শিল্প আছে এবং সেটা কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই।

খুব শীঘ্রই তারা যুক্ত্রাষ্ট্রের বাজারে অফলাইনে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে যাচ্ছে।

গুগল ওয়াইমো (Waymo) এর মত কোম্পানির মালিক যা কিনা কিনা উবার ড্রাইভিং এর মতই একটি সার্ভিস, যার জনপ্রিয়তা দিন দিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

মূলত গুগলের কাছে আপনার ব্যাপারে অন্য যেকোরো চাইতে অনেক বেশি ডাটা আছে।

গুগলের কাছে আপনার নিজের গুগল ডিভাইস এবং আপনার হাতের ব্যবহারকৃত স্মার্টওয়াচ আছে। গুগল জানে আপনি কোথায় যাচ্ছেন, কি করছেন। যার ফলে এটা সহজেই জানে আপনি কি চাইছেন।

মূলত গুগলের কাছে আপনার ব্যাপারে অন্য যেকোরো চাইতে অনেক বেশি ডাটা আছে।

তারা চেকিং একাউন্টের মত সার্ভিস চালু করছে। তাদের কাছে আপনার সমস্থ ডাটা আছে। এবার বলুন কে আপনাকে অফলাইনে ভাল বিজ্ঞাপন দিতে পারবে?

নিশ্চয় গুগল?

পরিবর্তন # ৬ :  অনুসন্ধানের ফলাফল ভবিষ্যতেও একই রকম দেখাবে না।

সম্ভাবত কিছু ব্যবহারকারী গুগলের মাঝে মধ্যেই হঠাত পরিবর্তনে কিছুটা বিরক্ত হোন। তবে এই পরিবর্তন গুগল সার্চ ইঞ্জিনকে আরোও বেশি ব্যবহারযোগ্য করে তুলছে।

তারা নিত্য নতুন বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপনের পরীক্ষা করে চলেছে।

এমনকি আপনি যদি একটি ব্যবসাকে লিড করতে চান তবে গুগল থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

এবং গুগল চায় আপনি কেবল হোটেলের ওয়েবসাইটে না গিয়েও কেবলমাত্র তাদের অনুসন্ধান ইঞ্জিনকে ব্যবহার করেই হোটেলের ওয়েবসাইটে রুম বুকিং করতে পারবেন।

এই রকম ছোট ছোট পরিবর্তণ ইতিমধ্যে গুগল তাদের সার্চ ইঞ্জিনে যুক্ত করেছে।

আপনি কোন হিসাব করুন কিংবা কিছু ক্যালকুলেশন করুন অথবা অন্য কোন গুরুত্বপুর্ণ ছোট তথ্য জানতে চান গুগল তাদের সার্চ ইঞ্জনের মাধ্যেমে আপনাকে কোন ওয়েবসাইট ভিজিট ছাড়াই সার্চ ইঞ্জিনের মধ্যেই আপনাকে দেখিয়ে দিবে।

পরিশেষে বলা যায় ভবিষ্যতে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে চলছে। পৃথীবিতে শুধু নিত্য নতুন উদ্ভাবন কারী কোম্পানি শুধু একটি নয়। গুগল এটা ভাল করেই জানে।

তাই গুগল একজায়গায় শুধু স্থির থাকবে না। খুব শীঘ্রই একটা মার্কেটিং জগতে একটা বিপ্লব আনতে চলছে। যার ফলে দুনিয়ার মানুষ তাদের তৈরী প্রডাক্ট ব্যবহার করতে বাধ্য হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.